ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের হেফাজতে নিহত আশরাফ আলী আড়াই মাস নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।
গোয়েন্দা হেফাজতে নিহতের নাম ভুল বলেছে পুলিশ 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের হেফাজতে নিহত আশরাফ আলী আড়াই মাস নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।


রবিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পুলিশ তার নাম বলেছিল মোহাম্মদ আসলাম। তবে আজ সোমবার বিকালে তার দুই স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসে তার পুরো পরিচয় প্রকাশ করেন।

দুই স্ত্রী বলেন, নিপা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে গাজীপুর থাকতেন আশরাফ আলী। তাদের সঙ্গে প্রায় আড়াই মাস ধরে কোন যোগাযোগ ছিল না আশরাফের।

পুলিশ জানায়, আসলাম গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের হেফাজতে ছিলেন। তার শারীরিক অসুস্থতার দেখা দিলে রবিবার সকাল সাড়ে আটটার সময়ে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোয়েন্দা পরিদর্শক মাহবুব আসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে সন্ধ্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের শরীরে দুই হাত ফোলা, দুই রানে দুই পায়ে জখমের নীলা ফোলা জখমের চিহ্ন ছিল। এ থেকে তাকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠে।

তবে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছুই বলছেন না। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ কমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ওবায়দুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শুনেছি তার ঘটনায় শাহআলী থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে এজাহারের কপি এখনও হাতে পাইনি।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে নিহত ব্যক্তির দুই স্ত্রী সোমবার আসেন ঢাকা মেডিকেলে। এসে জানান, তার নাম আসলাম নয়, আশরাফ আলী। তার বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদাহ গ্রামে।

আশরাফের বড় স্ত্রী শাহানা পারভীনের ঘরে এক ছেলে এক মেয়ে আর ছোট স্ত্রী নাছিমা আক্তারের ঘরে এক মেয়ে সন্তান ছিল।

দুই জন জানান, প্রায় আড়াই মাস ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না আশরাফ আলীর। তারা ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।

সেখানে আশরাফ আলী পুলিশের গাড়ি চালাতেন বলেও জানান তার দুই স্ত্রী। তবে সম্প্রতি তিনি নিপা নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করে গাজীপুরে থাকতেন।

দুই স্ত্রী জানান, রবিবার আশরাফ ও নিপাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে নানা সূত্রে তারা জানতে পারেন পুলিশ হেফজতে তাদের স্বামী মারা গেছে।

আজ সন্ধ্যায় আশরাফ আলীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ। এ ঘটনায় তিন সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের অপর দুই সদস্য হলেন ওই বিভাগের প্রভাষক কবির সোহেল ও কবির বিশ্বাস।

ময়নাতদন্ত শেষে সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, নিহত আশরাফের দুই হাটুতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার ভিসেরা পরীক্ষার জন্য মহাখালী রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এই প্রতিবেদন আসলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।

Post A Comment: