পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডিতে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২৬ জন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ চিবিতোকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যখন বৃহস্পতিবার গণভোট হওয়ার কথা তখন এ হামলার ঘটনা ঘটল।
 

পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডিতে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২৬ জন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ চিবিতোকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যখন বৃহস্পতিবার গণভোট হওয়ার কথা তখন এ হামলার ঘটনা ঘটল।

স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে সাত বছর করা হবে কি না তা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই এ ধরনের হামলা চালানো হলো।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তারা মনে করেন না যে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ওই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কারণ দেশটিতে প্রতিনিয়ত সহিংসতা ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে।

বুগান্ডা জেলার প্রধান ইমানুয়েল বিগিরিমানা জানান, রুহাগারিকা নামক গ্রামে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ জন হামলাকারী গ্রামে ঢুকে নির্বিচার গুলি চালায়। এতে অনেকেই ঘটনাস্থলে এবং বাকিরা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়। হামলাকারীদের পরনে সেনাবাহিনীর পোশাক ছিল বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট পিয়েরে এনকুরুনজিজা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিলে দেশটিতে সহিংসতা শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের ঘোষণা সংবিধান পরিপন্থী এবং ২০০৫ সালে যে চুক্তির মাধ্যমে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে এটি তার লঙ্ঘন।
বিরোধিতা সত্ত্বেও পিয়েরে পুনর্নির্বাচিত হন। এরপর বিরোধীদের অনেকেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ওই ঘটনার পর থেকে দেশটির অন্তত চার লাখ লোক শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট পর পর দুই বার ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। কিন্তু আগে ক্ষমতায় থাকলে তা হিসাবের মধ্যে আসবে না। যদি এই নিয়ম মানা হয়, তাহলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের পক্ষে যাতে কেউ ভোট না দেয় সেজন্য সতর্ক করতেই এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

কিন্তু বিগিরিমানা বলছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা নয়। কারণ হামলাকারীরা তিন বাড়ি লক্ষ্য করে শুধু শিশু ও নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে

Post A Comment: