ভোটের বছরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর একটি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) এক শতাংশ কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা।
ভোটের বছরে বেসরকারি ব্যাংকের জন্য অর্থমন্ত্রীর দুই ছাড় 

ভোটের বছরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর একটি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) এক শতাংশ কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা।


সিআরআর কমানোর এই সিদ্ধান্ত ভোটের আগ পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বর অবধি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের পরামর্শে জুন মাসে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের কথা জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক মালিকদের সংগঠন (বিএবি)-র   বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বৈঠক থেকে বের হয়ে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

মুহিত বলেন, তাদের অনেক দাবি ছিল, আজকে অনেক বিস্তর আলোচনা হয়েছে, তাদের কিছু টাকা রাখতে হয় সিআরআর সাড়ে ছয়শ শতাংশ। এটা এখন ওনারা দাবি করেছেন তিন শতাংশ কমিয়ে দেয়া। আমরা সবকিছু বিবেচনা করে সকলের আলোচনা শুনে। বিভিন্ন মহলের উপদেশ শুনে। এক শতাংশ কমিয়েছি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে ঝুঁকি মোকাবিলায় মোট তহবিলের সাড়ে ৬ শতাংশ সিআরআর  হিসেবে জমা রাখে।  নতুন সিদ্ধান্তে ব্যাংকগুলো ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

এই সিদ্ধান্ত জুন মাসে রিভিউও করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময়ের মধ্যে দেখব কী হয়।

এই জুন মাসের আইডিয়াটা সালমান দিয়েছে (সালমান এফ রহমান)। যদি দেখি এটা ইফেক্টিভ হচ্ছে ফাইন। যদি দেখি আরও কিছু করতে হয়...।

বেসরকারি ব্যাংকের জন্য আরও একটি সুখবর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত এখন অবধি ৭৫ শতাংশ সরকারি ব্যাংকে রাখা হলেও একটি কমিয়ে ৫০ শতাংশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাকি টাকা রাখা হবে বেসরকারি ব্যংকে।

‘আমার অফিস থেকে (অর্থ মন্ত্রণালয়) ইতিমধ্যে এটা ইস্যু হয়েছে গেছে’-এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আশা করেন, এতে ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমবে।

তাহলে সুদের হার এক অংকে নেমে আসবে-এটা আশা করা যায় কি না?-এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ আশা করা যায়’।

এত পরিমাণ টাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে দেয়া হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কোন কিছু হয়নি এই দেশে যার জন্য মূল্যস্ফীতি বাড়বে। ইমপসিবল বাড়বেই না এই বছর।

এ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা ও আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবালসহ আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএবির সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, সিআরআর এর টাকা পেলে তারল্য সংকট কিছুটা কমে যাবে। তারল্য সংকট কমে গেলে সুদের হারও কমে যাবে।

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কি না-এমন প্রশ্নে নজরুল ইসলাম বলেন, উনি বলছেন হয়তো (অর্থমন্ত্রী)। এটা অটোমেটিক কমে যাবে। এটা কবে কমাবে কেউ বলতে পারবে না।

‘আমরা তো আট শতাংশেরও (সুদ হার) লোন দিয়েছি। দীর্ঘদিন সিঙ্গাল ডিজিটে লোন দিয়েছি। সেখানে কেন আসতে পারব না।

Post A Comment: