একটা বয়সের পর আমাদের ত্বকের মাঝে বয়সের ছাপ পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, অনেকর ক্ষেত্রে হয় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে ত্বকে বয়সের আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে।
ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে ভুল পরিচর্চা! 

একটা বয়সের পর আমাদের ত্বকের মাঝে বয়সের ছাপ পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, অনেকর ক্ষেত্রে হয় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে ত্বকে বয়সের আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে।


আর এ কারণেই অনেকে আগে থেকে ত্বকে বয়সের ছাপ, বলি রেখা রোধে অনেক কিছুই করে থাকেন। তবে আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না, এগুলো ঠিক কতটুকু কার্যকরি আমাদের ত্বকের জন্য। আবার ঠিক কত বছর বয়সের জন্য কি পণ্য ব্যবহার করা উচিত!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধারে সৌন্দর্য ধরে রাখার পণ্য ব্যবহার করার থেকে বরং নিজের ত্বক এবং চুলকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করা ভালো। আজ আমরা সেই সব বাহ্যিক পরিবর্তনের কথা বলব, যেগুলো বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে থাকে এবং এই পরিবর্তনগুলো সত্যি আপনার জানা দরকার।

অ্যান্টি রিংকেলসের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে, ক্রিম ২০ বছর বয়সে মুখের সুক্ষ্ম দাগ দূর করতে সক্ষম। অ্যান্টি এজিং ক্রিম ও লোশন ঘড়ির কাটা ঘুরিয়ে পিছনে নিয়ে যায় এবং আপনার মুখের দাগ দূর করে দেয়। এটা একটা ভুল ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকের এক কর্মী বলেন, এই ধরনের ক্রিমগুলো আসলে ত্বকের তেমন কোনো পরিবর্তন আনে না।।

আমরা সবাই আমাদের ত্বক সুন্দর রাখতে চাই। তাই অ্যান্টি এজিং ক্রিমের পরিবর্তে ময়েশ্চারাইজড ক্রিম এবং প্রতিদিন সানসস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করুন।

৩০ বছর থেকে চোখের চারদিকে ডার্ক সারকেল দেখা দেয়, যা অয়েনমেন্ট ব্যবহারে কমিয়ে ফেলা যায়। এটা আমাদের একটা ভুল ধারণা।

৩০ বছরের পর থেকে চোখের নিচে যে ডার্ক সারকেল দেখা যায় তার নির্দিষ্ট ভিটামিনভিত্তিক ক্রিম ব্যবহার করে কমানো যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী ‘পেরিওরবাইটাল ডার্ক সার্কেল’ বিভিন্ন কারণে হয়। তার মধ্যে বয়স অন্যতম। আমাদের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে যে পরিবর্তন হয় তার সব কিছুতে আমাদের জিনের বেশ প্রভাব আছে। এর কারণে চোখের চারপাশের জায়গায় ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং এটা যত পাতলা হতে থাকে চোখের চারপাশের কালো দাগের মতো ব্লাড ভেজেল বোঝা যেতে থাকে।

বেশিরভাগ মানুষ দেখতে পান, ৪০ বছর বয়স থেকে তাদের চুল হালকা পাকতে শুরু করে এবং তারা মনে করেন এর মূল কারণ বিভিন্ন ধরনের চাপ। এটাও একটা ভুল ধারণা।

প্রাকৃতিক জিনগত পরিবর্তন ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। বিপুল সংখ্যক মানুষ চেষ্টা করেও এর কিছু করতে পারবে না। তবে এই কথা স্বীকার করা হয় যে, অতিরিক্ত চাপে বা ধকলে থাকলে চুল তাড়াতাড়ি পাকার সম্ভাবনা থাকে।

অনেক মানুষ বলে ৫০/৫০/৫০ নিয়ম রয়েছে যেখানে ৫০ বছর বয়সে পৌছাঁনোর পর ৫০ শতাংশ মানুষ তার চুলের রঙ ৫০ শতাংশ হারায়।

বিখ্যাত কসমেটিক কোম্পানি ল’অরেলের করা একটি ব্যয়বহুল গবেষণা থেকে বলা হয়, সমস্ত বিশ্বে ৫০ বছর বয়সে শতকরা ৫০ ভাগ চুলের রঙ হারানো মানুষের গড় ২৩ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ এর মধ্যে।

যদি ৬০ বছর বয়সে আপনার মুখে অনেক রিংকেলস বা কুচকানো দাগ থাকে, তাহলে আপনার ত্বক অস্বাস্থ্যকর- এমনটা বলা হয়ে থাকে।

কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন যা আমাদের ত্বক সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। বয়স ২০ এর পর থেকে এই উপাদানটি শরীর থেকে ১ শতাংশ হারে কমতে থাকে। তাই বৃদ্ধ বয়সে ত্বকের দাগগুলো খারাপ নয়।

আপনার ত্বক কুচকানোতে এমন কিছু হচ্ছে না, যেটা হওয়া উচিত নয়। বরং এটিই বয়স, ক্লান্তি, জেনেটিক্সসহ স্বাভাবিক নিয়মের একটি সমন্বয়।

Post A Comment: