সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক ও বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা একটি সামাজিক সমস্যা। দুর্ঘটনা রোধে আমাদের সম্মিলিতভাবে সচেতন হতে হবে। এজন্য মানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে 

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক ও বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা একটি সামাজিক সমস্যা। দুর্ঘটনা রোধে আমাদের সম্মিলিতভাবে সচেতন হতে হবে। এজন্য মানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’


সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এআরআই  সেমিনার হলে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘Social Science Research Techniques for Transportation Planning and Safety’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে এআরআই । তাদের সহযোগিতা করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সোশ্যাল সাইন্স রিসার্স সেন্টার (এসএসআরসি)।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় পাঁচ সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণে তা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনার কারণগুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা ধারণা দেবেন। প্রশিক্ষণার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেগুলো শিখে শিক্ষার্থীদের শেখাবেন। এর মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হবে। কোর্সটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের এক বছর মনিটরিং করা হবে। পরে তাদের অভিজ্ঞতা গবেষণা কাজে লাগানো হবে।

অনুষ্ঠানে মেট্টোপলিটন শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় তিন গুণ বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে জানিয়ে এর কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এআরআই  পরিচালক বলেন, ‘প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশে স্কুলে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বাস আছে। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা চোখে পড়ে না। দেখা যায় চাকরিজীবী পরিবারকে তার সন্তানকে স্কুলে আনা-নেয়ার জন্য একটি গাড়ি কিনতে হয়। সেজন্য একজন ড্রাইভার রাখতে হয়। এতে ওই পরিবারের ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। আবার গাড়ির জন্য যানজটতো আছেই। দেখা যায় স্কুলে আনা-নেয়ার জন্য চারবার গাড়ি আপ ডাউন করে। ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়ছে এটা শুধু বললেই হবে না। গাড়ি বাড়ার কারণগুলোও দেখতে হবে। সেটার সুরাহা করতে হবে। এজন্য গণপরিবহনকে নিরাপদ করতে হবে।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আরও জানান, ‘রাজধানীতে বৈধ রিকশার সংখ্যা দুই লাখ। অথচ চলছে ১০ থেকে ১৫ লাখ। জ্যাম সৃষ্টির অন্যতম কারণ এটিও। রিকশাগুলো কোথায় থাকছে সেটা কেউ খেয়াল রাখছেন না। এই রিকশাচালকদের জন্য সৃষ্টি হচ্ছে হকার। ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা হাটতে পারছে না। দেখা যায় গ্রাম থেকে এসেই রিকশা চালাচ্ছে কোনোরকমের ট্রেনিং নিয়েই। সেটায় আমরা উঠছি। আমরা কী তাদের হাতে নিরাপদ?’

আলোচনায় বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘জনগণকে সড়ক দুর্ঘটনার ব্যপারে সোচ্চার হতে হবে। জনগণ ধাক্কা না দিলে সরকার কাজ করে না। সরকারকে টনক নড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সচেতনতা দরকার। পাঠ্যপুস্তকে এ সম্পর্কে তুলে ধরা উচিৎ।

নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আমরা লক্ষ্য করেছি। এটা কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সেটা নিয়ে আমাদের গবেষণা করা দরকার।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম থেকে বাসে ঢাকায় আসছিলাম। যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করি তাই চারিদিকে খেয়াল করছিলাম। চার লেনের রাস্তায় মানুষ চলাচল করছে মনে হয় তারা কোনো উঠান পার হচ্ছে। বিশেষ করে হাট বাজার এলাকায়। এজন্য আমাদের রাস্তা পারাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেও অনেক অংশে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে।

Post A Comment: