সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে আনন্দ মিছিল করেছেন কোটা সংস্কারপন্থী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এ আনন্দে মিষ্টিমুখও করেছেন কেউ কেউ। কিন্তু সেই মিষ্টির স্বাদ তেতো হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। যে পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা আন্দোলন করেছিলেন ফের যেন সেখানেই দাঁড়াতে হচ্ছে তাদের!

 

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে আনন্দ মিছিল করেছেন কোটা সংস্কারপন্থী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এ আনন্দে মিষ্টিমুখও করেছেন কেউ কেউ। কিন্তু সেই মিষ্টির স্বাদ তেতো হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। যে পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা আন্দোলন করেছিলেন ফের যেন সেখানেই দাঁড়াতে হচ্ছে তাদের!


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ শুরু থেকেই কোটার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিলে ছাত্রলীগও কোটার স্বপক্ষে আনন্দ মিছিল করে ক্যাম্পাসে। ভোল পাল্টে ছাত্রলীগ আবারও কোটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে! সমস্যার মুখোমুখি পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যারা আন্দোলনে জড়িত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ছাত্রলীগের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে এদের। কোটা আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এষার বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ঢাবি কর্তৃপক্ষ এশাকে বহিষ্কার করে। অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে ছাত্রলীগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
গতকাল ঢাবি কর্তৃপক্ষও ফিরিয়ে দেন এশার ছাত্রত্ব। তার এ ফিরে আসাকে নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকি হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ৭ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক। ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ৭ দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন ও মুহম্মদ রাশেদ খান উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। উপস্থিত না থাকার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠে ফুটবল খেলা থাকায় তিনি সেখানে আছেন, সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেননি।

তার এ অনুপস্থিতির নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ছাত্রলীগের আগ্রাসী ভূমিকাও জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্নের। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে শিবিরকর্মী আখ্যা দিয়ে গণধোলাই দেওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার ফেসবুকে ইভেন্ট খুলেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ইভেন্টের পক্ষে ছাত্রলীগের সূর্যসেন হল শাখার সহ-সভাপতি কাজল আহমেদ আবির ফেসবুকে লেখেন, ‘এর পরেও যারা শিবিরের প্রতি প্রত্যক্ষ সমর্থন, মৌন সমর্থন বা কোনোরূপ শিবির টাইপ মন্তব্য করবে তারাও শিবির। আর শিবির কীভাবে ঠাণ্ডা করতে হয় ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েরা তা খুব ভালোভাবে জানে। বিশেষ দ্রষ্টব্য : কুত্তার মতো পেটাব বলে কুত্তারে অপমান করলাম না।’

এ ছাড়াও ফেসবুকে রাশেদের দেওয়া বিভিন্ন স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দিয়ে তাকে শিবির বলে দাবি করা হচ্ছে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুজবও রেখেছে প্রভাবক ভূমিকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট গুজব রটনাকারীদের খুঁজে বের করতে। জানা যায়, কোটা সংস্কারে গুজব ছড়ানো ২০০ ফেসবুক আইডি শনাক্ত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রমনা থানায় আইসিটি ধারায় করা এ মামলাটি দায়ের করেছেন এ থানার উপপরিদর্শক এসএম শাহজালাল। পাশাপাশি তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটেরও একজন সদস্য। মামলাটিতে অজ্ঞাতনামা বেশ কিছু লোককে আসামি হিসেবে দেখানো হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবু আহমেদ খোলা কাগজকে বলেন, কোটা প্রথা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেছেন, সেটাই হওয়া উচিত। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরলে নিশ্চয়ই একটা বিহিত হবে। তিনি যখন কথা দিয়েছেন, সে কথার মূল্য অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ডিবি ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের হেনস্তার অভিযোগ উঠছে। এটা একেবারেই অনুচিত। ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা আন্দোলন করেছে, তারা কেন হয়রানির শিকার হবে!

বরেণ্য এ শিক্ষক আরো বলেন, কোটা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। কোটা কতটা ন্যায্য কিংবা কোটা বাতিল করাই আসল বিষয়। যারা এর গায়ে রাজনীতির গন্ধ লাগাচ্ছে, তারা ভালো করছে না। এটা দেশের জন্য ক্ষতিকারক।

আন্দোলনকারীরা এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যেই হয়তো প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন। ফিরে তিনি যদি দিকনির্দেশনা দিয়ে দেন, তাহলে তো আশঙ্কার কারণ থাকে না। প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদার প্রতি উভয় পক্ষের সম্মান দেখানো উচিত। এখানে রাজনীতির টানাহেঁচড়া অথবা কোনো ছাত্রকে শাস্তি দেওয়া একেবারেই কাম্য নয়। আন্দোলন যদি ন্যায্য হয়, আন্দোলনকারীরা শাস্তি পাবে কেন! শুধু আন্দোলনের কারণে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।

Post A Comment: