নেশার টাকার জন্য ওই গৃহবধূর মুখে গরম তেল ডেলে শরীরের প্রায় ৩০ ভাগ অংশ জ্বলসে দিয়েছে তার পাষন্ড স্বামী। নরসিংদীর পলাশে জেসমিন বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর ওপর মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্যাতনের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 গৃহবধূকে মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্যাতন স্বামীর, শাশুড়ি আটক

নেশার টাকার জন্য ওই গৃহবধূর মুখে গরম তেল ডেলে শরীরের প্রায় ৩০ ভাগ অংশ জ্বলসে দিয়েছে তার পাষন্ড স্বামী। নরসিংদীর পলাশে জেসমিন বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর ওপর মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্যাতনের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পলাশ থানায় নির্যাতিত ওই গৃহবধূ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আজ রাতে গৃহবধূ জেসমিন বেগমের শাশুড়ি মিনারা বেগমকে আটক করেন। এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের দড়িচর পাড়া গ্রামে। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মো. মামুন মিয়া পলাতক রয়েছে। মামুন মিয়া গাজারিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত পাঁচ বছর পূর্বে দড়িচর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে মামুন মিয়ার সাথে নরসিংদীর সদর উপজেলার চম্পক নগর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে জেসমিনের বিয়ে হয়। মামুন পেশায় অটোরিকশা চালক। বিয়ের কয়েক মাসপর তার স্বামী নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকে তার স্বামী নেশার টাকার জন্য জেসমিনের ওপর অমানুবিক নির্যাতন চালাতে থাকে। একপর্যায়ে গত শনিবার রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চুলায় থাকা রান্না করার গরম তেল গৃহবধূ জেসমিনের শরীরে ডেলে দেয়। এতে তার মুখমন্ডলসহ শরীরের ৩০ ভাগ জ্বলসে যায়।

নির্যাতিত গৃহবধূ জেসমিন বেগম জানান, গত পাঁচ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় স্বামী মামুন মিয়া নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। তিনি আমাকে বাপের বাড়ি থেকে নেশার টাকা এনে দেওয়ার জন্য প্রায় সময় মারধর করত। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেকবার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিয়েছি। আমাদের চার বছরের একটি মেয়ে আছে। মেয়েটির মুখের দিকে চেয়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে আসছি। ওই রাতে আবারও টাকা চাইলে আমি টাকা এনে দিতে পারবনা জানালে তিনি চুলায় রান্না করার গরম তেল আমার শরীরে ডেলে দেয়। এসময় আমার আত্মচিৎকারে আশে পাশের মানুষ ছুটে আসে। কিন্তু আমার স্বামী ও শাশুড়ি তখন আমাকে হাসপাতালে না নিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখে।

গৃহবধূর জেসমিনের বাবা মোহাম্মদ আলী জানান, খবর পেয়ে পরের দিন সকালে মেয়ের স্বামীর বাড়ি গিয়ে দেখি জেসমিন অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মামুন মিয়া প্রায় সময় আমার মেয়েকে মারধর করে টাকার জন্য আমার কাছে পাঠাতো। মেয়ের উপর নির্যাতন বন্ধের জন্য এ পর্যন্ত মামুনকে ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে অনেক বার স্থানীয়ভাবে দেনদরবারও করা হয়। কিন্তু তারা আমার মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করেনি।

এব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ তার শাশুড়িকে আটক করে। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত মামুন মিয়া পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের অভিযান চলছে।

Post A Comment: