সাধারণ মানুষ কিংবা পর্বতারোহী হোক, যেকোনো মানুষের জন্যই সর্বোচ্চ পর্বতে আরোহণ করা এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা। কারণ সেখানে উঠতে হলে একজন পর্বতারোহীকে বহু অজানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু ৪৮ বছর বয়সী নেপালি পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপার কাছে বিষয়টি যেন ছেলেখেলার মতো। এই বয়সে মোট ২১ বার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠে বিশ্বরেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তিনি।
২৫ বছরে ২১ বার এভেরেস্টে 

সাধারণ মানুষ কিংবা পর্বতারোহী হোক,  যেকোনো মানুষের জন্যই সর্বোচ্চ পর্বতে আরোহণ করা এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা। কারণ সেখানে উঠতে হলে একজন পর্বতারোহীকে বহু অজানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু ৪৮ বছর বয়সী নেপালি পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপার কাছে বিষয়টি যেন ছেলেখেলার মতো। এই বয়সে মোট ২১ বার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠে বিশ্বরেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তিনি।


এর আগে নেপালের আরও দুইজন ২১ বার করে সর্বোচ্চ পর্বতের শীর্ষে উঠে রেকর্ড করেছেন। সমান সংখ্যক বার পর্বতে উঠে তাদের পাশে নাম লেখান তাদেরই স্বদেশি কামি রিতাও। আরেকবার পর্বতে উঠতে পারলেই বিশ্বরেকর্ড করবেন কামি রিতা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এটি রিতার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কারণ যৌথভাবে শীর্ষে থাকা বাকি দুই সহযাত্রী ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন। এখন কামি রিতা যদি আরেকবার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হন তাহলে এই রেকর্ড চলে আসবে তার একার দখলে। তিনিই হয়ে যাবেন বিশ্বের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহী।

এ সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি বার্তা সংস্থাকে কামি রিতা শেরপা জানিয়েছিলেন, ‘নতুন ইতিহাস গড়তে আমি আরো একবার এভারেস্টে উঠতে যাচ্ছি। যাতে সকল শেরপা এবং আমার দেশ গর্ব করতে পারে।’

কামি রিতা প্রথমবারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিলেন ১৯৯৪ সালে। আর শেষবারের মতো তার আরোহণ করেছিলেন গত বছরের মে মাসে। এর মধ্যে তিনি মাউন্ট এভারেস্টে উঠেছেন ২১ বার।

তিনি কাজ করছেন পর্বতারোহণ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে একজন গাইড হিসেবে। বিদেশি আরোহীরা সাধারণত তার মতো শেরপাদের গাইডের সহায়তা দিয়ে মাউন্ট এভারেস্টে উঠেন।

এই সহায়তার জন্যে তাদেরকে অর্থ দেওয়া হয়। তাদের কাজ হলো উপরে উঠার পথ তৈরি করা, জায়গায় জায়গায় রশি বসানো যাতে ওই রশি ধরে আরোহীরা উপরের দিকে উঠতে পারেন। এছাড়া আরোহীদের সঙ্গে আরও যেসব জিনিস থাকে সেগুলো অনেক সময় বহন করেন।

এবার কামি রিতা মাউন্ট এভারেস্টে উঠতে যাচ্ছেন তাতে ২৯ সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এই দলে আছে জাপানি ও মার্কিন পর্বতারোহী।

গতকাল রবিবার তারা বেজ ক্যাম্প থেকে রওনা দিয়েছেন। পুরোদমে এই অভিযান শুরু হবে আরও দুই সপ্তাহ পর। তারা কখন একেবারে শীর্ষে গিয়ে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন সেটা নির্ভর করছে আবহাওয়ার উপর।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৯শে মে চূড়ায় পৌঁছানো যাবে বলে জানান কামি রিতা। তিনি বলেন, চূড়ায় উঠতে সফল হলেই তিনি আগের রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া রেকর্ড করে ফেললেও এভারেস্টে ওঠা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়ে কামি রিতা বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ২৫ বার ওঠা। আমি একটা ইতিহাস গড়তে চাই।’

Post A Comment: