নিজ নিজ শিল্প-কারখানায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্যে উৎকর্ষতা সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১২টি শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রধান অতিথি হিসেবে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নির্বাচিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।
 ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অ্যাওয়ার্ড পেল ১২ শিল্প প্রতিষ্ঠান

নিজ নিজ শিল্প-কারখানায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্যে উৎকর্ষতা সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১২টি শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রধান অতিথি হিসেবে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নির্বাচিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।


শিল্পখাতে বিশেষ অবদানের জন্য চতুর্থবারের মতো এ পুরস্কার দেয়া হয়। ২০১৬ সালের জন্য ৫ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস্ লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড ও আরএফএল প্লাস্টিকস্ লিমিটেড। মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, প্রাণ ফুডস্ লিমিটেড ও গ্রাফিকপিপল। ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড ও সিন্থেটিক এডেসিভ কোং লিমিটেড। মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে একাডেমিক বুক হাউস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ক্যাটাগরিতে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ইস্টার্ণ কেবলস্ লিমিটেড ও গাজী ওয়্যারস্ লিমিটেড।

পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করে শিল্প কারখানায় সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, শিল্পায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি ও উদ্যোগের ফলে দেশে শিল্পায়নের ধারা জোরদার হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় আয়ের শিল্পখাতের অবদান ৩৩ শতাংশ এবং সেবাখাতের অবদান ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিন্তানের ব্যাংক, বীমা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা পশ্চিম পাকিস্তানী ও বিহারীদের হাতে ছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় বাংলাদেশে বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। তিনি শিল্প কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনের ওপর গুরুত্ব দেন। শিল্প উদ্যোক্তাদের চাহিদামাফিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ অর্জনে শিল্প, সেবা, কৃষিসহ সকলখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প উদ্যোক্তারা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বন্দর সুবিধা বৃদ্ধির তাগিদ দেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি. রহমান, এনপিও’র পরিচালক এস.এম. আশরাফুজ্জামান, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুল হক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম চৌধুরী এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ এনায়েত হোসেন বক্তব্য রাখেন।

Post A Comment: