যে কোনো দুর্ঘটনাই বয়ে আনে বেদনা। নেপালের কাঠমান্ডুতে গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন ৫১ আরোহী। ওই ফ্লাইটে ছিলেন ৩৬ বাংলাদেশি। এদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ২৬ জন। জীবিত ১০ জন যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছেন কি না সে প্রশ্নও গুঞ্জরিত হচ্ছে। খোলা কাগজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেনকে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
আহতদের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন 

যে কোনো দুর্ঘটনাই বয়ে আনে বেদনা। নেপালের কাঠমান্ডুতে গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন ৫১ আরোহী। ওই ফ্লাইটে ছিলেন ৩৬ বাংলাদেশি। এদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ২৬ জন। জীবিত ১০ জন যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছেন কি না সে প্রশ্নও গুঞ্জরিত হচ্ছে। খোলা কাগজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেনকে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ খোলা কাগজকে বলেন, নেপালের চিকিৎসকরা মত দিয়েছেন, দুর্ঘটনায় জীবিত বাংলাদেশি যাত্রীদের দেহ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পুড়েছে। এ প্রেসক্রিপশন দিয়েই নেপাল সরকার যাত্রীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এতটুকু পুড়লে তার চিকিৎসা বাংলাদেশেই করা সম্ভব। এটা বেশি বার্ন না, তবু ইনফেকশন হলে সমস্যা হয়। কিন্তু তারপরও যখন বাংলাদেশি চিকিৎসায়ও কুলালো না, রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হলো; এখানে একটা প্রশ্ন সৃষ্টি হলো। নিশ্চয়ই নেপালি চিকিৎসকরা যে পরিমাণ পোড়ার কথা জানিয়েছেন তার চেয়ে বেশি পুড়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে আক্রান্তদের সিঙ্গাপুরে পাঠানোটা অযৌক্তিক কিছু না। তবে নেপাল সরকার তাদের সরাসরিই সিঙ্গাপুরে পাঠাতে পারত। তাতে সময়ক্ষেপণ হতো না। সে দেশের চিকিৎসকরা যেভাবে বলেছেন, তা যথার্থ বলে মনে করি না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সঠিকভাবে রিপোর্ট না লেখায় বাংলাদেশ আপত্তি জানাতে পারে। নেপালের কাছে জবাবদিহিও চাওয়া যায়।

নিহত ও আহত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান বলেন, যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ জানতে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ দুর্ঘটনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে প্রাথমিকভাবে ৪১ লাখ ৭২ হাজার ডলার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সাধারণ বীমা করপোরেশন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর আগে সাধারণ বীমার এমডি শাহরিয়ার আহসান বলেছিলেন, বিধ্বস্ত ওই উড়োজাহাজের নিহত যাত্রীদের প্রত্যেকের জন্য দুই লাখ ডলার পর্যন্ত আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে ইউএস-বাংলার কর্মকর্তা কামরুল বলেন, নিহতরা সবাই সমান পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন না। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বয়স, সামাজিক অবস্থাসহ বেশকিছু বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারিত হবে ক্ষতিপূরণ।

ডান পা হারালেন কবির হোসেন
উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন কবির হোসেনের ডান পা কেটে ফেলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবির হোসেনকে গত রোববার রাতেই সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। পরদিন সোমবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার হয়।

তিনি আরও বলেন, কবিরের ডান পায়ে পচন ধরায় তিনি ঢাকা মেডিকেলে থাকা অবস্থায়ই আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা তার ডান পায়ের হাঁটুর পর থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন।

কবিরের বাম পায়ের বিষয়ে পরবর্তীকালে কী করা হবে সেই সিদ্ধান্তও সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরাই নেবেন বলেও জানান নেপালে আহতদের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান।

এর আগে শনিবার সকালে বোর্ড মিটিংয়ে পরিবারের সম্মতিক্রমে এবং ইউএস-বাংলার তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য কবিরকে নেপালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে কবির হোসেনকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগ পর্যন্ত তিনি ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন ভবনের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

বিমানের কো-পাইলট পৃথুলা রশীদের মৃত্যু কাঁদিয়েছে অনেককেই। ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের মৃত্যু আরও মর্মান্তিক। অপূরণীয় এ শোক সইতে না পেরে তার স্ত্রী আফসানা খানমও পাড়ি জমান পরপারে। চলে গেলেন শাহীন ব্যাপারীও। গত সোমবার বেলা পৌনে ৫টার দিকে মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)।

স্মরণকালের এ ভয়াবহ ট্র্যাডেজিতে বাংলাদেশ একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে। অশ্রু ঝরেছে দেশবাসীর; বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয় কোনোভাবেই। এতগুলো তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়া বেদনাবিধুর করে তুলেছে সবাইকে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চিকিৎসাজনিত ত্রুটি ও ভুল প্রেসক্রিপশনের জন্য নেপাল সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক খতিয়ে দেখা জরুরি।

নেপালের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের পাইলট আবিদ সুলতানসহ ১০ যাত্রী বেঁচে যান। তাদের মধ্যে আবিদ সুলতান পরদিনই নেপালে মারা যান। অন্যদের মধ্যে মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা, আলমুন নাহার অ্যানি, শেহরিন আহমেদ, কবির হোসেন ও শাহীন ব্যাপারীকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে শাহীন ব্যাপারী তিন দিন আগে মারা যান এবং কবির হোসেনকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। এছাড়া নেপাল থেকেই ইয়াকুব আলীকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি ইমরানা কবীর হাসি ও ডা. রেজওয়ানুল হককেও সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

Post A Comment: