পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এই বছরেই (২০১৮) বিশ্ব অর্থনীতির ৪০তম দেশ হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে আছে ৪৩তম অবস্থানে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে আবির্ভূত হব।
Bangladesh-will-be-the-40th-country-of-the-world-economy-this-year

পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এই বছরেই (২০১৮) বিশ্ব অর্থনীতির ৪০তম দেশ হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে আছে ৪৩তম অবস্থানে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে আবির্ভূত হব।


রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে বুধবার দুপুরে এসব কথা বলেন তিনি। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী বলেন, গরিব দেশ হওয়ার যন্ত্রণা থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখানে ৪৩ বছর পর আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেলাম। হয়তো আমাদের এখানে আসতে অন্যদেশের তুলনায় সময় বেশি লেগেছে। কিন্তু এখন আমরা খুব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করব। কারণ আমাদের কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্টে আমরা সব দেশ থেকে এগিয়ে। আমাদের মতো কর্মক্ষম জনবল কোনো দেশে নেই। যেটা আমরা ধরে রাখতে পারব ২০৬১ সাল পর্যন্ত।

মুস্তফা কামাল বলেন, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এ তিনটির যেকোনো দুটি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিলের মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ ডলার। সেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১২৭১। মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি। বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম। সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এটা জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিপিডি) হিসাব।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১০ সালে বিশ্ব অর্থনীতির দেশ হিসেবে ৫৮তম ছিলাম, সেখান থেকে এখন আমরা ৪৩তম অবস্থানে এসেছি। ২০৮১ সালে আমরা উন্নত দেশ হব। তখন আমরা ২০তম অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে অবস্থান করব। এই ক্ষেত্রে আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নসহ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে হাত দিয়েছি। আমরা গভীর সমুদ্র বন্দর করছি। গ্যাস, বিদ্যুতের উন্নয়ন করছি। ২০৩০ সালে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করব। আমাদের প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা দরকার। হয়তো আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ কম। তবে আমরা তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি বিনিয়োগ বাড়াতে।

তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকার মতো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ। হয়তো মায়লশিয়ার মতো এখনও অত উন্নত নই আমরা।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আমাদের লসের কোনো কারণ নেই। আমরা কোনো বেনিফিট হারাব না। আমাদের রপ্তানিও কমবে না। বৈদেশিক বিনিয়োগ আমাদের বাড়বে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছানোর এখন প্রাথমিক স্বীকৃতি পেয়েছি। তিন বছর পর পাব আমরা চূড়ান্ত স্বীকৃতি। তিন বছর আমাদের তারা দেখবে। আমাদের এখন অনেক সহজ হবে ঋণ সংগ্রহের জন্য।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের রপ্তানি শুধু পোষাক খাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। আমরা ফার্মেসিটি, লেদার, আইটি সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টরের পণ্য রপ্তানি করব। আইসিটি হবে রপ্তানির প্রধান খাত।

Post A Comment: