নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের কারণ কি ত্রুটিপূর্ণ যোগাযোগ নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি? বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। সোমবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ওই বিমানবন্দরে বাংলা স্টার ২১১ ফ্লাইটের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত: যান্ত্রিক নাকি যোগাযোগ ত্রুটি?

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের কারণ কি ত্রুটিপূর্ণ যোগাযোগ নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি? বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। সোমবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ওই বিমানবন্দরে বাংলা স্টার ২১১ ফ্লাইটের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায়নি। তবে ঘটনার পর থেকে ইউএস-বাংলা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একে অপরকে দুষছে।

ইতোমধ্যে বিমানের ব্লাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

নেপালি গণমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমস বুধবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিংয়ের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মনে হচ্ছে, ৭৮ আসনের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলছেন, তীব্র শব্দে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্তের কয়েক মিনিট আগে কাঁপুনি অনুভূত হয়েছে।


থাপাথালি এলাকার নর্ভিক আন্তর্জাতিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বালাজুর ট্রাভেল এজেন্সি অপারেটর আশিশ রঞ্জিত বলেছেন, ‘উড়োজাহাজটি যে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে তা বিধ্বস্তের আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম। কারণ উড়োজাহাজটি ভয়ংকরভাবে দুলছিল। আমি আতঙ্কিত হই এবং একজন এয়ার হোস্টেজকে ডাক দেই। কিন্তু তিনি তার বড়ো আঙুল উঁচিয়ে বুঝান যে, সব কিছু ঠিক আছে।’

কিন্তু কেন উড়োজাহাজটি এভাবে দুলছিল?

নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির সাবেক মহাপরিচালক ত্রি রত্ন মানান্ধার বলছেন, ‘বছরের এই সময়টাতে (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল) এটি স্বাভাবিক ঘটনা, কারণ এই সময় প্রবল বাতাস থাকে যা বিমানে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করে।’

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে যথেষ্ট অভিজ্ঞ এ ব্যক্তি জানান, চলতি মাসে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট দুই বার ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করে। কিন্তু আড়বায়ুর (ক্রসউইন্ড) কারণে অবতরণে ব্যর্থ হয়।

কিন্তু অডিও কনভার্সেশন থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটির ক্ষেত্রে সে রকম কোনো ঘটনা ছিল না। ত্রি রত্ন বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো ছিল, বিশেষ করে বায়ু ছিল স্বাভাবিক। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যখন যোগাযোগ করা হয় তখন ক্যাপ্টেন ছিলেন স্বাভাবিক (কুল এন্ড কাম)।’

তিনি বলছেন, ‘এটা একটা রহস্য যে, বিমানটি কেন উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে সোজা ডান দিকে ঘুরে পূর্ব দিকে গেল। এটা অস্বাভাবিক। এটা সত্য যে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য বিশাল জায়গা দেওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু যে পাইলট কাঠমান্ডুতে এসেছিলেন তিনি তো ‘বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত’।

ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান শতাধিক বার কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। তাছাড়া তার পাঁচ হাজার ঘণ্টার বেশি ফ্লাইং করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নেপালের অভ্যন্তরীণ রুটের এক পাইলট বলছেন, ‘তার অভিজ্ঞতার কারণে এটা দ্রুত বলা উচিত হবে না যে, তিনি অপরিচিত ছিলেন।’

ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের পাইলট পবনদ্বীপ সিং বিবিসিকে বলেছেন, রেকর্ডিং দেখে মনে হচ্ছে, ককপিটে একটি দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। ‘সত্যিকার অর্থে কী হয়েছে তা আমি বলতে পারব না। তবে মনে হচ্ছে, পাইলট যখন অবতরণের চেষ্টা করছেন তখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে ভুল বোঝাবোঝি হয়েছে,’ বলেন তিনি।

তবে মানান্ধার যুক্তি দিয়ে বলছেন, ফ্লাইটটির জন্য রানওয়ে ক্লিয়ার করা হয়েছে। পাইলটকে ২ নম্বর রানওয়েতে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন তিনি সেখানে না নেমে অগ্রসর হলেন সেটাই আশ্চার্যের বিষয়।

তাহলে কি ফ্লাইটটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয় ছিল? ফ্লাইটটির অস্বাভাবিক আচারণ দেখে সে সম্ভাবনা উড়িযে দেওয়া যায় না বলে মনে করছেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্র ছোট-খাট একটি কারণে কখনো বিমান বিধ্বস্ত হয় না। এর সঙ্গে আরো কিছু বিষয় জড়িত থাকে।

কোনো বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই যে সেটি বিধ্বস্ত হবে এমন কোনো কথা নয়, বরং পাইলটের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়টিও জড়িত।

পরিসংখ্যান বলে, বিমান বিধ্বস্তের কারণ সাধারণত স্পষ্ট হয় না। একটি বিমান বিধ্বস্তের ক্ষেত্রে পাইলটের ভুল ৫৫ শতাংশ, যান্ত্রিক ত্রুটি ১৭ শতাংশ, আবহাওয়া ১৩ শতাংশ, ৮ শতাংশ বজ্রপাত সংক্রান্ত এবং ট্রাফিক কন্ট্রোল ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডিংলের বিষয়ে ৭ শতাংশ ত্রুটি বিবেচনা করা হয়।

Post A Comment: