যার নেই গুণ, তাকেই বলা হয়ে থাকে বেগুন। কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং বেগুন যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, তারা কোনো রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই খেতে পারেন।
ভিন্ন স্বাদে আচারি বেগুন 

যার নেই গুণ, তাকেই বলা হয়ে থাকে বেগুন। কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং বেগুন যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, তারা কোনো রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই খেতে পারেন।



পাকস্থলী, কোলন, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্তের (এগুলো পেটের ভেতরের অঙ্গ) ক্যানসারকে প্রতিরোধ করে বেগুন। যে কোনো ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে এটি। বেগুনে আয়রনও রয়েছে, যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে।

এতে চিনির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই ডায়াবেটিসের রোগী, হৃদরোগী ও অধিক ওজন সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন বেগুন।

বেগুনে রয়েছে রিব্লোফ্ল্যাভিন নামক উপাদান। এই উপাদান জ্বর হওয়ার পরে মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করে। দূর করে জ্বর জ্বর ভাব।

এছাড়া সারা বছর বেগুন পাওয়া যায়। আর এই বেগুন দিয়ে রান্না করা যায় নানা রকমের মজার খাবার। বেগুন ভাজি, বেগুন ভর্তা, বেগুন দোলমা কতো রকমের রান্নাই না করলেন বেগুন দিয়ে।

তবে আচারি বেগুন কি কখনো রান্না করেছেন? ঘরে থাকা মশলা দিয়ে তৈরি করা যায় বেগুনের এই ভিন্ন স্বাদের খাবারটি।

মশলার জন্য উপকরণ:

জিরা ১ চা চামচ
কালোজিরা ১/২ চা চামচ
মৌরি ১/২ চা চামচ
সরিষা ১/২ চা চামচ

গ্রেভির জন্য উপকরণ:

ছোট বেগুন ৮-১০টি
টমেটো সিদ্ধ ২টি
লাল মরিচ ২-৩টি
মৌরি ১/২ চা চামচ
সরিষা ১/২ চা চামচ
আদা রসুন পেস্ট ১ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ
মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ লাল
ধনিয়া গুঁড়ো ২ চা চামচ
তেল ৫ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদ মতো
পানি পরিমাণ মতো

প্রণালী:

> প্রথমে টমেটো সিদ্ধ করে নিন।
> এবার আরেকটি প্যান মাঝারি আঁচে চুলায় দিন। প্যান গরম হয়ে আসলে মৌরি, কালোজিরা, জিরা, সরিষা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। সুন্দর গন্ধ বের হলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। ভাজা মশলাগুলো গুঁড়ো করে নিন।

> এবার একটি প্যানে অল্প তেল দিয়ে বেগুনগুলো দিয়ে দিন। বেগুনগুলো আস্ত রেখে মাঝখান দিয়ে চার ভাগ করে নিন। খেয়াল রাখবেন বেগুন যেন ডাটার সাথে যুক্ত থাকে আর মাঝের অংশ ভেঙে না যায়। বেগুনের ওপর অল্প তেল ছিটিয়ে দিন, যাতে করে বেগুনগুলোর দু’পাশ ভাজা হয়।

> এখন আরেকটি প্যানে তেল দিয়ে লাল শুকনা মরিচ ভাজুন। মরিচ ভাজা হয়ে গেলে এতে মৌরি, কালোজিরা, সরিয়া, আদা রসুনের পেস্ট দিয়ে নাড়ুন।

> তারপর এতে ভাজা গুঁড়ো মশলা, হলুদ গুঁড়ো, সিদ্ধ টমেটো কুচি, লবণ দিয়ে রান্না করুন।

> মশলা থেকে তেল উপরে উঠে আসলে এতে হলুদ গুঁড়ো, ধনিয়া গুঁড়ো দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। তারপর এতে টমেটো দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়ুন। ঢাকনা দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন।

> ৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে আরও ১০ মিনিট রান্না করুন। ১০ মিনিট নামিয়ে ফেলুন মজাদার আচারি বেগুন।

টিপস:

টমেটো সিদ্ধের সময় এটির পানিতে বরফ কুচি দিয়ে দিবেন। এতে টমেটোর খোসা খুব সহজে ছাড়ানো যাবে।

আর আপনি যদি মশলা তৈরি করার ঝামেলায় যেতে না চান, তাহলে ঘরে থাকা যেকোনো আম বা জলপাইয়ের (টক) আচার মসলা কষানো হলে টমেটো দেয়ার আগে দিয়ে দিন। তারপর যখন পানি দিবেন তখন বাকি কাজ একই নিয়মে করতে পারেন। নামানোর আগে শুধু মৌরি গুঁড়া ছিটিয়ে দিবেন সুন্দর ঘ্রাণ ছড়াবে।

Post A Comment: