চাকরি জীবন শেষে পেনশন পেতে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকুরেরা। এখন থেকে অবসরকালীন এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে ব্যাংক হিসাবে।
পেনশন পেতে দুর্ভোগের অবসান, টাকা যাবে ব্যাংকে 

চাকরি জীবন শেষে পেনশন পেতে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকুরেরা। এখন থেকে অবসরকালীন এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে ব্যাংক হিসাবে।


বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রণালয়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘পেনশন পেতে ব্যবস্থাপনাগত উন্নয়ন’ বিষয়ে এক মতবিনিময়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এ কথা জানান।

প্রথমে ৯৭ জন পেনশনারের জন্য এ পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। দেশের ৬ লাখ ৫৭ হাজার ২১২ জন পেনশনারই যেন এই সুবিধা পায়, সে জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

মুহিত বলেন, ‘পেনশনারদের পেনশন পেতে আর বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না। তাদের পেনশন পাবে অনলাইনে। অর্থমন্ত্রণালয়ের এএফটির মাধ্যমে মাসের শেষ দিনে প্রত্যেক পেনশনারদের কাছে নিজ নিজ মোবাইলে মেসেজ চলে যাবে। পরের দিন নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে যাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ পেনশনের টাকা।’

‘এখন থেকে আর কাউকে পেনশনের হিসেব করা বা পেনশন জমা হলো কি না তার জন্য দুঃচিন্তার দরকার হবে না।’

আর এই পদ্ধতি চালু হওয়ায় ভীষণ খুশি অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকের এ পরিবর্তন দেখে অনেক ভাল লাগল। এটা এ সময়ের জন্য যুগান্তকারী পরিবর্তন যে এখন থেকে মাসের প্রথম দিনেই পেনশনারদের পেনশন ব্যাংকে চলে যাবে এবং মোবাইলে মেসেজ দিয়ে ইনফরম করা হবে। সো এটা আমাদের অনেক খুশি লাগছে। আমরা উৎফুল্ল।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৮৩ সাল থেকে বাংলাদেশি পদ্ধতিতে পেনশন দেয়া শুরু হয়। এর আগ পর্যন্ত এটা চলতো ব্রিটিশ পদ্ধতিতে। তখন একটা পরিবর্তন আমরা এনেছি। তখন ছিল আপনার পেনশন কালেক্ট করবে ব্যাংক। তখন ব্যাংক তা কলেক্ট করে সংশ্লিষ্ট পেনশনারকে প্রদান করত। তখন একটি বইয়ে এ হিসেব রাখা হতো।’

এ সময় অর্থমন্ত্রী নিজে পেনশনে যাওয়ার পর যে বইয়ে পেনশন নিতেন তা উঁচিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘এটা আমার প্রথম পেনশন বই।’

আগামী বাজেটে সবার জন্য সরকারি চাকুরেদের পাশাপাশি বেসরকারি চাকুরেদের জন্যও পেনশন চালুর বিষয়টির থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষ ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমে যুক্ত হবে। সরকারের যে মেইন ফাংশন জনকল্যানমূলক কার্যক্রম যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাজে উৎসাহিত করেন সেটা এখানে ফুলফিল হবে।’

‘এখানে জনকল্যাণের একটা ব্যবস্থা করেছি। সরকারই জন্মই হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য। কিন্তু বর্তমানে মোর ইমপোরটেন্ট হয়ে গেছে জনকল্যাণ।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। অনুষ্ঠান চলাকালেই তার মোবাইল ফোনে পেনশনের টাকা জমা হওয়ার ক্ষুদেবার্তা আসে। তিনি সে বার্তা পড়েও শোনান।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমাম, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান, সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষক লুৎফুল মজিদ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে যারা অবসরকালীন এই সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের মধ্যে আছেন এরাও।

অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘ট্যাক্সের চালানও যেন এ সিস্টেমে (অনলাইন) দেওয়া যায়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা হলে ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে না।’

Post A Comment: