এবারের বাণিজ্য মেলায় সরকারের বরাদ্দ ছিল প্রায় ২২ কোটি টাকা। মেলা শেষে আয় দাঁড়াবে ৫০ কোটির মতো। যা থেকে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ কোটি টাকা।
বাণিজ্য মেলা থেকে সরকারের রাজস্ব আসবে প্রায় ২৮ কোটি টাকা

এবারের বাণিজ্য মেলায় সরকারের বরাদ্দ ছিল প্রায় ২২ কোটি টাকা। মেলা শেষে আয় দাঁড়াবে ৫০ কোটির মতো। যা থেকে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ কোটি টাকা।


মেলার পূর্বনির্ধারিত সময় অর্থাৎ জানুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব কষলে আনুমানিক টাকার পরিমাণ এমনই আসতে পারে বলে জানালেন মেলার পরিচালক ও ইপিবি সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান।

তিনি জানান, যেহেতু মেলার সময় আরো চার দিন বাড়ানো হয়েছে, তাই এখন পরিপূর্ণ হিসাব দেয়া সম্ভব নয়। তবে আনুমানিকভাবে বলা যায় এবারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে প্রায় ২৮ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, একটি ব্যর্থতা ছাড়া এবারের মেলার আয়োজন এখন পর্যন্ত অনেক প্রাণবন্ত ও সফলতার পথে। প্রথম দিকে শীতের যে প্রভাব পড়েছিল, বাড়তি চার দিনে তা কেটে যাবে।

একমাত্র ব্যর্থতা প্রসঙ্গে মোরশেদ জামান বলেন, প্রথমবারের মতো এবারের মেলায় আমরা সাংস্কৃতিক মঞ্চের আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধ করায় আমরা সেই আয়োজন করতে পারিনি। এছাড়া সব আয়োজনই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, সাংস্কৃতিক মঞ্চ আয়োজনে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৮ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে মেলার পরিচালক বলেন, এই টাকা মেলার অন্য কোনো খাতের বরাদ্দে ঘাটতি দেখা দিলে কাজে লাগানো হবে। নইলে এই বরাদ্দ ফেরত যাবে।

তিনি বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবারের মেলা অনেক শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। কারণ, মেলার মূল সময় পেরিয়ে বাড়তি সময় চলছে, অথচ এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ আসেনি আমাদের কাছে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টগুলোর ব্যাপারে প্রতিবার অধিক মূল্য রাখার যে অভিযোগ আসে এবার তা নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বেশ তৎপর।

মেলার শুরুতেই আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীর হাতে তুলে দেয়ার কথা ছিল ডিআইটিএফের সকল তথ্য সংবলিত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপস। কিন্তু প্রথমার্ধ পর্যন্ত দর্শনার্থীরা হাতে পায়নি সেই অ্যাপসটি।

এ প্রসঙ্গে মেলার পরিচালক বলেন, আমি নিজেই এটি হাতে পেয়েছি মেলা শুরু হবার ১২ দিন পর। কারণ যে প্রতিষ্ঠানকে অ্যাপসটি তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তারাই দেরি করেছে এটি সরবরাহ করতে। এছাড়া এ বিষয়টি প্রচারও পায়নি তেমন। আর প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার হওয়ায় মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও বুঝে ওঠেনি এর গুরুত্ব। তাই তারা তাদের তথ্যগুলোও সরবরাহ করেনি এই অ্যাপসে। তবে আগামীতে এটি আরো গুরুত্ববহ হবে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বলে মনে করি।

এছাড়া ইপিবির আর কোনো ব্যর্থতা নেই এবারের মেলা আয়োজনে। সবমিলিয়ে সফল হতে চলেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮, যোগ করেন ডিআইটিএফ পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান।

Post A Comment: