মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারির পরপরই দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি এবং সাবেক প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
 

মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারির পরপরই দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি এবং সাবেক প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


সর্বোচ্চ আদালতের একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপে সম্প্রতি রাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত। এরপর গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন দেশটিতে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেন।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাগ সাঈদ ও বিচারপতি আলী হামিদকে গ্রেফতার করে। টুইট বার্তায় পুলিশ তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি জানালেও ঠিক কি অভিযোগে গ্রেফতার, তা জানায়নি। আলজাজিরা।
এছাড়া প্রায় তিন দশক মালদ্বীপের শাসন করা সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থা আর বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে দেশটির মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাত থেকে সুপ্রিম কোর্ট ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ফলে অনেক বিচারপতিই সেখানে অবরুদ্ধ রয়েছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বিরোধী ৯ নেতার বিরুদ্ধে আনা সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে গত বছর সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বরখাস্ত বিরোধীদলের ১২ সংসদ সদস্যকেও পুনর্বহালের আদেশ দেয়া হয়।

এসব আদেশ বাস্তবায়িত হলে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন অভিশংসিত হতে পারেন- এমন গুঞ্জনের মুখে রোববার তিনি পুর্বনির্ধারিত সংসদ অধিবেশন স্থগিত করেন।

এছাড়া প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন সুপ্রিম কোর্টকে তাদের দেয়া কয়েকটি আদেশ প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান।

এরপর সোমবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম মুয়াজ আলী জানান, সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে দেয়া ক্ষমতাবলে সোমবার থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট।

এই ঘোষণার মাধ্যমে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে মালদ্বীপের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একতরফা ক্ষমতা দেয়া হয়। এরপরই ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়।

সেই অভিযানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের সৎ ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম ছাড়াও প্রধান বিচারপতি ও অপর এক বিচারপতিকে গ্রেফতার করা হয়। গাইয়ুমের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দেশটির বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুসনু আল সুদ বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী সুপ্রিম কোর্ট ঘিরে রেখেছে। ফলে বিচারকরা ভেতরে আটকা পড়েছেন। তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না।

Post A Comment: