জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
জুবায়ের হত্যা মামলার আপিলের রায় ২৩ জানুয়ারি

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।


বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল।

তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত এই মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পরে ডেথ রেফেরেন্স নিষ্পত্তির জন্যে মামলাটি হাইকোর্টে আসে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের কর্মী জুবায়েরকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এসময় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জানুয়ারি মারা যান জুবায়ের।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বি এম নিজামুল হক ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার রায়ে পাঁচজনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দু’জনকে খালাস দেওয়া হয়।

ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন— প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। তাদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম রাজু ছাড়া বাকি ৪ জন পলাতক।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন— পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, দর্শন বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ ও ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ, ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম এবং অণু জীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজমুস সাকিব তপু।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অরূপ পলাতক, বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাশেদুল ইসলাম রাজু। পরে আসামিদের ডেথরেফারেন্স হাইকোর্টে আসে।

Post A Comment: