খাদ্য গ্রহণে লাগামহীনতা, কাজের চাপ কিংবা বিষণ্নতায় ভুগে ‘কুড়িতেই বুড়ি’ হয়ে যায় অনেকে। কারো কারো ক্ষেত্রে ৩০ বা ৪০ বছরের পর থেকেই চেহারায় বার্ধক্যের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। তবে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও যত্ন নিলে যে পরিণত বয়সেও নিজেকে রাখা যায় ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত, তা-ই প্রমাণ করলেন ট্রিসিয়া কাসডেন। যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী এই নারী বার্ধক্যে এসেও চিরযৌবনা হওয়ার যে প্রয়াস চালিয়েছেন, তা সৌন্দর্যচর্চায় মনোযোগী অনেকের কাছেই দৃষ্টান্ত।
বয়স বেড়েছে, কমেনি রূপের জৌলুস  

খাদ্য গ্রহণে লাগামহীনতা, কাজের চাপ কিংবা বিষণ্নতায় ভুগে ‘কুড়িতেই বুড়ি’ হয়ে যায় অনেকে। কারো কারো ক্ষেত্রে ৩০ বা ৪০ বছরের পর থেকেই চেহারায় বার্ধক্যের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। তবে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও যত্ন নিলে যে পরিণত বয়সেও নিজেকে রাখা যায় ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত, তা-ই প্রমাণ করলেন ট্রিসিয়া কাসডেন। যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী এই নারী বার্ধক্যে এসেও চিরযৌবনা হওয়ার যে প্রয়াস চালিয়েছেন, তা সৌন্দর্যচর্চায় মনোযোগী অনেকের কাছেই দৃষ্টান্ত।


এ বয়সেও সৌন্দর্যচর্চায় মনোযোগী হওয়ার নেপথ্যের ঘটনা স্মরণ করে কাসডেন জানান, ৬৫ বছর বয়সে তিনি ১০০ ডলার (আট হাজার ৪০০ টাকা প্রায়) খরচ করছিলেন দাম মেকআপ কেনায়। কিন্তু সেসব পণ্য ব্যবহার করে দেখলেন, ত্বকে একেবারেই মানাচ্ছে না। এমনকি তাকে কম বয়সীও লাগছে না। বিরক্ত হলেন। অনুধাবন করলেন নিজেই এর চেয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন তিনি। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন  নিজ ওয়েবসাইট ‘লুক ফ্যাবুলাস ফরএভার’।

ওই ওয়েবসাইটে ট্রিসিয়ার তৈরি করা ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলো ইতিমধ্যেই দেখেছেন ৪৪ লাখ মানুষ। আর তার তৈরি মেকআপ পণ্য বিক্রি করে অর্থ উপার্জিত হয়েছে ২০ লাখ ডলারের বেশি।

সৌন্দর্য নিয়ে উদ্যোগের বিষয়ে ট্রিসিয়া বলেন, 'আমি নারীদের মেনোপজকেই দোষারোপ করি। এই সময়ে নারীদের কিছু একটা হয়। কারণ ৫০ বছরের পর বেশির ভাগ নারী নিজেদের কম আকর্ষণীয় ও কম কর্মক্ষম মনে করেন। ...বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানানো উচিত সবার, নিজের মাঝে তারুণ্য ধরে রেখে সেইভাবেই জীবনযাপন করা উচিত।'

ট্রিসিয়ার মতে, সব প্রতিষ্ঠান মেকআপ পণ্য বিক্রয় করে থাকে দুই ধরনের নারীর জন্য। প্রথমত, যারা পুরুষের চোখে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখাতে চান। দ্বিতীয়ত, একটি বিশেষ বয়সের নারী যারা ‘অ্যান্টি-এজিং’ পণ্যের খোঁজ করে থাকেন। কিন্তু ট্রিসিয়া চান ‘তৃতীয় ক্যাটাগরি’র মেকআপ পণ্য সবার কাছে উপস্থাপন করতে। এসব মেকআপ সামগ্রী ব্যবহারের উদ্দেশ্য উপরের কোনটিই হবে না। বরঞ্চ বয়সের সঙ্গে মানানসই সৌন্দর্য ধরে রাখা ও ফুটিয়ে তোলাই হবে এই পণ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্য। 

ট্রিসিয়ার মতে, একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর প্রতিটি নারীর কিছু ব্যাপার মেনে চলা উচিত। আবার কিছু ব্যাপার এড়িয়ে চলা দরকার। এতে করে নিজের  তারুণ্য ও বয়সজনিত সৌন্দর্য-উভয়ই ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বিভিন্ন বয়সী নারীদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য রক্ষায় ট্রিসিয়ার পরামর্শ 


লাল রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করা

ট্রিসিয়ার মতে, লাল লিপস্টিক ব্যবহারে সৌন্দর্য ভালোভাবে ফুটে ওঠে। হালকা রুপালি চুলের সঙ্গে ঠোঁটের লাল রং খুব ভালো মানায় বলে মনে করেন তিনি। এতে করে একজন নারীকে আরো বেশি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সুন্দর লাগে। তিনি বলেন, ‘সবাই বলে বয়স বেড়ে গেলে লাল লিপস্টিক ব্যবহার করা যাবে না। এটা খুবই ভুল কথা।’

বয়সকে মেনে নেওয়া

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চামড়া কুঁচকে যাওয়া, চামড়া ঝুলে যাওয়া, চোখের নীচে ফুলে যাওয়ার মতো ব্যাপারগুলো একেবারেই সাধারণ। এতে  বিচলিত হওয়া যাবে না। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিভ্রমণের ফলস্বরূপ চেহারায় তার ছাপ আসবেই। এই ব্যাপারটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

মনোমুগ্ধকর পোশাক পরিধান করা

বয়স বেড়ে গেছে বলে যাচ্ছেতাই ধরনের পোশাক পরতে হবে-এমন কোন কথা নেই। নিজের পছন্দমতো রুচিসম্মত পোশাক নির্বাচন করতে হবে। যে পোশাক পরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা যাবে এবং যে পোশাক মানিয়ে যাবে, তেমন পোশাকের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পোশাক পরার সঙ্গে মনে রাখতে হবে নিজের মাঝে যেন আত্মবিশ্বাসও ফুটিয়ে তোলা যায়।

চুলের রং প্রাকৃতিক রাখা

চুল পেকে যাচ্ছে? কোনো চিন্তা নেই। চুল পেকে সুন্দর রুপালি বর্ণ ধারণ করে ফেললেও কৃত্রিম চুলের রং ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কারণ বয়স বাড়ার ফলে চুলের রং হারানোর সঙ্গেই মুখের উজ্জ্বলতাও হারাতে থাকে। এতে করে মুখের ত্বক অনেকটা নিষ্প্রভ হয়ে ওঠে। এমন চেহারার সঙ্গে চুলের রং বিকট উজ্জ্বল হলে দেখতে খুব অদ্ভুত ও তুলনামূলক বেশি বয়স্ক মনে হয়। তাই চুলের স্বভাবিক ও প্রাকৃতিক রং ধরা রাখার ব্যাপারে ছাড় দেওয়া চলবে না।

যত ভ্রমণ, তত আনন্দ

পুরো জীবনে অনেক দুঃশ্চিন্তা, পরিকল্পনা করার পর শেষ বয়সের দিকে আসার পরে এই ব্যাপারগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে। এই সময়ে যতটা আনন্দে থাকা সম্ভব হবে, ততই ভালোভাবে বেঁচে থাকা যাবে। নতুন বন্ধু বানানোর জন্য চেষ্টা করা, নতুন কোনো শখের কাজ খুঁজে বের করা, নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করা এবং সবশেষে নতুন স্থানে ভ্রমণ করার চেষ্টা করতে হবে।


নির্দিষ্ট বয়সের পর যে কাজগুলো প্রতিটি নারীর এড়িয়ে চলা উচিত

চলতি ফ্যাশন সম্পর্কে অজ্ঞতা

ফ্যাশনের ধারণা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। বয়স বেড়ে গেছে বলেই বর্তমান সময়ের ফ্যাশন সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখার প্রয়োজন নেই- এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। বরঞ্চ ফ্যাশনের পাশাপাশি লাইফস্টাইল ও নিজের ব্যক্তিত্বের ব্যাপারেও সমান জোর দেওয়া প্রয়োজন।

রাগী মানুষ হওয়া থেকে বিরত থাকা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু নারী অকারণেই রাগী হয়ে ওঠেন। তুচ্ছ ব্যাপারেও খিটিমিটি করে থাকেন। এই বদভ্যাসটি বদলানোর চেষ্টা করতে হবে। সব সময় চারপাশের সব কিছু নিয়ে অভিযোগ করার পরিবর্তে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।

অলসতা ঝেড়ে ফেলা

একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর জীবনে ক্রমশ অলসতা বাড়ে। কিন্তু চেষ্টা করতে হবে এই অলসতাকে ঝেড়ে ফেলে যথাসম্ভব কর্মক্ষম হওয়ার। যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়া (ফ্রি হ্যান্ড) শরীর চর্চার কৌশলগুলো রপ্ত করার চেষ্টা করতে হবে।

কোনো অনুশোচনা না রাখা

একবার ভাবুন যে আপনি মৃত্যুশয্যায় শুয়ে আছেন। এমন অবস্থায় আপনার মনে নিশ্চয় কোনো অনুশোচনা কাজ করবে না। যা কাজ করবে, সেটা হলো, আরও একটা দিন বেশি বাঁচার ইচ্ছা। তাই অতীত জীবনের কোনো অনুশোচনাকে মনে রেখে না দিয়ে প্রতিটি দিন আনন্দ নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে।

Post A Comment: