নতুন বছরে বিশ্বের সব স্থানে যুদ্ধ ও হানাহানি বন্ধের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে টুইটারে বার্তা দিয়েছে সিরিয়ার ছোট্ট শিশু বানা আল আবেদ। নববর্ষের দিনে ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় সব শিশুদের শুভেচ্ছা জানায় বানা। ২০১৮ সালটি শান্তির বছর হবে বলেও সে আশা প্রকাশ করে। নতুন বছরের আনন্দ অনেকে শুরু করতে পারলেও যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষের সে সুযোগ হয়নি বলেও বানা মন্তব্য করে।
 

নতুন বছরে বিশ্বের সব স্থানে যুদ্ধ ও হানাহানি বন্ধের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে টুইটারে বার্তা দিয়েছে সিরিয়ার ছোট্ট শিশু বানা আল আবেদ। নববর্ষের দিনে ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় সব শিশুদের শুভেচ্ছা জানায় বানা। ২০১৮ সালটি শান্তির বছর হবে বলেও সে আশা প্রকাশ করে। নতুন বছরের আনন্দ অনেকে শুরু করতে পারলেও যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষের সে সুযোগ হয়নি বলেও বানা মন্তব্য করে।


সিরিয়ার বিদ্রোহী শাসিত আলেপ্পো শহরে বাস করতো ৭ বছরের ছোট্ট শিশু এই বানা আল-আবেদ। শহরে যখন সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের তুমুল সংঘর্ষ চলছিল তখন জীবন-মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের বদলে শান্তি বার্তা ছড়িয়েছিল এই শিশুটি। শিশুটি তার ইংরেজি জানা মায়ের সাহায্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে আলেপ্পো শহরের যুদ্ধ নিয়ে তথ্যচিত্রসহ নানা বক্তব্য প্রকাশ করতে থাকে।

বানার বেশির ভাগ টুইটেই বিমান হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ, ক্ষুধা, জনসাধারণের উৎখাত, তার এবং তার পরিবারের মৃত্যুর সম্ভাবনা, সুন্দর শৈশবের জন্য তার আকাঙ্ক্ষা এবং সর্বোপরি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো মানবিক আবেদন জানাতে থাকে।


টুইটারে ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বানা @AlabedBana নামে একটি একাউন্ট খোলে। মাত্র ২ দিনেই ৭ বছর বয়সী বানা #HolocaustAleppo, #MassacreInAleppo, #StopAleppoMassacre এর মতো হ্যাশট্যাগ ছাড়াও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উদ্দেশ্য করে করে টুইট করতে থাকে।

বানার একাউন্টে প্রায় ৩,৭০,০০০ এর মতো ফলোয়ার আছে। টুইটারও পরবর্তীতে তার একাউন্টকে স্বীকৃতি প্রদান করে। বানা মূলত তার একাউন্টটি মা ফাতেমা’র সাহায্যে চালিয়ে থাকে। যুদ্ধের পূর্বে বানার মা ফাতেমা একজন ইংরেজী ভাষার শিক্ষিকা ছিলেন।

অবশ্য যুদ্ধের জন্য টুইটারে সে পশ্চিমা দেশগুলো এবং ক্ষমতাধর মহলকে দায়ি করায় মার্কিন সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুম্যানথালসহ অনেকে শিশুটির সমালোচনা করতে থাকে। ফলে ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর বানার টুইটার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য দু’দিনের মধ্যেই সে তার একাউন্ট ফিরে পায়।

সিরিয়ার সরকার বাহিনী আলেপ্পোতে অভিযান চালানোর পর তুরস্ক এবং রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শহরটি থেকে সাধারণ জনগণকে চলে যাবার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি হয়। কিন্তু আলেপ্পো শহরে জনসাধারণকে সরিয়ে ফেলার কাজ পরিকল্পনা মোতাবেক না হওয়ায় বানার মা ফাতেমা তুরষ্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুশোগ্লুকে উল্লেখ করে একটি টুইট করেন।


জবাবে মন্ত্রী তাদের এবং বাকি জনসাধারণকে বের করে আনার ব্যাপারে তুরষ্কের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরেই সিরিয়ার সরকার বাহিনী আলেপ্পো দখলের পর বানা আল-আবেদ ও তার পরিবারসহ ৩৫০ জনকে যুদ্ধ কবলিত শহরটি থেকে বের করে নিয়ে আসে। সে বছরের ২১ ডিসেম্বর বানা এবং তার পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তুরষ্কে বসবাসের অনুমতি পায়।

দেশটিতে বানা ও তার পরিবার তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতেরও সুযোগ লাভ করে। ২০১৭ সালের ১২ই মে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বানার পরিবারকে তুরষ্কের নাগরিকত্ব প্রদান করে।

Post A Comment: