যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টার সময় আহত অবস্থায় আটক বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের।
নিউইয়র্কে বোমা হামলায় অভিযুক্ত আকায়েদ উল্লাহ 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টার সময় আহত অবস্থায় আটক বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের।


২৭ বছর বয়সী আকায়েদ উল্লাহ নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালাত এবং ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করত। তার বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আজীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।

বুধবার ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টে গ্র্যান্ড জুরির সামনে আকায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পেশ করেন প্রসিকিউটররা। পরে গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পক্ষে মত দেয়।

ইউএস এটর্নি জিয়োফ্রে এস বারমেন বলেন, ‘সময় ও স্থান বিবেচনা করে দুঃখজনকভাবে এটা পরিষ্কার যে, আকায়েদ উল্লাহ’র বোমা বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য ছিল। যদি তাকে প্রতিহত করা সম্ভব না হলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। নিউইয়র্ক শহরের প্রাণকেন্দ্রে আইএসের নামে সন্ত্রাসী হামলা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।’

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছিল, ‘বোমা বিস্ফোরণের আগে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দিয়েছিলেন আকায়েদ উল্লাহ। একটি আইএসের পক্ষে এবং অন্যটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহাস করে।’

গত ১১ ডিসেম্বর সকালে অফিসগামী যাত্রীদের ব্যস্ততার মধ্যে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে ম্যানহাটনের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে যাওয়ার সংকীর্ণ ভূগর্ভস্থ পথে নিজের শরীরে বাঁধা ‘পাইপ বোমায়’ বিস্ফোরণ ঘটান আকায়েদ।

বোমাটি ঠিকমত বিস্ফোরিত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন আকায়েদ। তার বিস্ফোরণে আহত হন তিন পুলিশ সদস্য।

তাকে গ্রেপ্তারের পর নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

আকায়েদের পূর্বপুরুষের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। আকায়েদের নানার পরিবার বহুদিন থেকেই নিউইয়র্কের বাসিন্দা। সেই সুবাদেই নিউইয়র্কে বসবাসের জন্য আকায়েদের পরিবার সেখানে চলে যায় ২০১১ সালে। আকায়েদ বিয়ে করতে ২০১৬ সালে ঢাকায় যান। সেসময় থেকে তার স্ত্রী ঢাকাতেই বসবাস করছেন। জুন মাসে ঢাকায় আকায়েদের এক সন্তান জন্মায়। ঐ সন্তানকে দেখতে আকায়েদ সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় গিয়েছিলেন এবং এক মাস বাংলাদেশে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Post A Comment: