১৬ বছর বয়সী এক বাঙালি স্কুলছাত্র তার পাকিস্তানি সহপাঠির সাথে প্রেম করার কারণে ‘সম্মান রক্ষার্থে’ ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা শারীরীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাকবার্ন শহরে ঘটা বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
'সম্মান রক্ষার্থে' বাঙালি কিশোরকে পাকিস্তানির মারপিট 

১৬ বছর বয়সী এক বাঙালি স্কুলছাত্র তার পাকিস্তানি সহপাঠির সাথে প্রেম করার কারণে ‘সম্মান রক্ষার্থে’ ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা শারীরীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাকবার্ন শহরে ঘটা বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।


অভিযোগ উঠেছে ওই বাঙালি ছাত্রকে রাস্তার এক কোনে নিয়ে আটকে রাখা হয়, তাকে কিল ঘুষি দেওয়া হয়, অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং বলা হয় ‘আমাদের রক্তের সাথে তালগোল পাকাতে আসবে না (মেস)। নিজের মতো কাউকে খুঁজে নাও।’

নির্যাতনকারীদের মধ্যে ছিল ওই তরুনীর বাবা, চাচা ও চাচাতো ভাই। তারা ‘তাকে লাথি মারো, তাকে মেরে ফেলো, ধংস করে দাও’ বলে চিৎকার করছিল। এদের মধ্যে নারীর গলার আওয়াজও শুনেছেন বলে দাবি করেছে ওই স্কুলছাত্র। প্রেসটন  ক্রাউন কোর্টে মামলাটি ওঠার পর বিচারক ওই তরুনীর বাবা, চাচা ও চাচাতো ভাইসহ ৪ জনকে জেল দিয়েছে।

১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এ যুগলের প্রেমের কথা জানতে পারার পর তরুণীর আত্নীয় স্বজনরা প্রথমে ওই স্কুলছাত্রের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের প্রেমের কোনো প্রমাণ মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় কিনা, সেটি খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রেমিক যুগলের একসাথে একটি ছবি দেখতে পায়।

জানা গেছে বাঙালি ওই স্কুলছাত্র ও তার প্রেমিকা একই স্কুলে পড়াশোনা করে। সপ্তাহে একদিন তারা গোপনে দেখা করতো। বেশিরভাগ সময়ে ফোনেই যোগাযোগ হতো তাদের। কিন্তু গত ৭ মার্চ তাদেরকে একসাথে দেখে ফেলে তরুনীর চাচা ঘানজাফর মির্জা, পেশার যিনি একজন গাড়িচালক। ভাতজিকে দেখে ফেলার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিজের গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যান। একটু পর ফিরে এসে সে ‘বন্ধুসুলভভাবে’ ওই স্কুলছাত্রটিকেও তার গাড়িতে উঠতে বলে।

আদালতে এ মামলার প্রসিকিউটর নিকোলাস ফ্ল্যানাগান বলেন, ‘গাড়িতে উঠার পরই গাড়ির দরজা বন্ধ করে দ্রুতবেগে গাড়ি চালাতে শুরু করেন ঘানজাফর। এত দ্রুত গাড়ি চলছিল যে ওই কিশোরের পালাবার কোনো রাস্তা ছিল না। গাড়ি চালাতে চালাতেই ঘানজাফর অন্যান্যতে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তৈরী হওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর তাকে রাস্তার এক ধারে গাড়ি থামিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে দৌড়ে একটি সেলুনে আশ্রয় নেয় সে। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

তার মাথায় এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে এবং এখনো একা বাসা থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে বলে দাবি করেছে।

Post A Comment: