শিশুদের ছয়টি রোগের টিকা বিনামূল্যে দেয়ার কর্মসূচি রয়েছে সরকারের। কিন্তু কোথাও কোথাও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে সরকারি দপ্তরের অবশ্য কোনো তদন্তের খবর নেই।
 

শিশুদের ছয়টি রোগের টিকা বিনামূল্যে দেয়ার কর্মসূচি রয়েছে সরকারের। কিন্তু কোথাও কোথাও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে সরকারি দপ্তরের অবশ্য কোনো তদন্তের খবর নেই।


খোদ রাজধানীতেই পাওয়া গেছে এমন একটি কেন্দ্র যেখানে টিকা দিতে গেলেই টাকা নেয়া হচ্ছে। যাদেরকে সামর্থবান মনে হয় তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২০০ টাকা করে, আর বস্তিবাসী ও হতদরিদ্রদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১০০ বা ৫০ টাকা করে। টাকা না দিলে ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এই টিকাদান কেন্দ্র রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সেখানকার জান-ই- আলম স্কুল সংলগ্ন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শূন্য থেকে দুই বছরের শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গর্ভবতীদের নানা টিকা, চিকিৎসা পরামর্শ ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাও দেয়া হয় এখান থেকে। এসব সেবাও সম্পূ্র্ণ বিনামূল্যে দেয়ার কথা।

তবে এখানে কোনো সেবাই বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে ‘সার্ভিস চার্জ’ এর নামে অবৈধভাবে টাকা আদায় চলছে। এই কেন্দ্রটি চালায় ‘প্রগতি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ও পরিবার পরিকল্পনা সংস্থা (PSKP & PPS)’ নামে একটি এনজিও।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এ কাজের দায়িত্ব পাওয়া সংস্থাটি তিনজন প্যারামেডিক্স ও একজন অফিস সহকারী দ্বারা টিকাদান কেন্দ্রটি চালায়।

কেন্দ্রটিতে টিকা দিতে আসা কয়েকজন নারী জানান, তাদের কারও কাছ থেকে ৫০ টাকা, কারও কাছ থেকে ১০০ টাকা আবার কারও কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করছেন স্বাস্থকর্মীরা। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেবা নিতে আসা নারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মীরা।

প্রতিদিন এই কেন্দ্রে ১০০ জন টিকা দিতে আসলে এবং তাদের কাছ থেকে গড়ে ১০০ টাকা করে আদায় করলে এক দিন ১০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। আর ২০০ জনকে টিকা দিলে টাকার অংক দাঁড়ায় ২০ হাজার।

সার্ভিস চার্জের নাম করে টাকা আদায় করা হলেও এজন্য কোন রসিদ দেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ‘প্রগতি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ও পরিবার পরিকল্পনা সংস্থা’র নিকুঞ্জ শাখার স্বাস্থ্যকর্মী লিলি দেউড়ী সার্ভিস চার্জের নামে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেন। এই সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে বিনামুল্যে টিকাগুলো দেওয়া হয়। তবে কেউ যদি খুশি হয়ে ৫০/১০০ টাকা দেয় সেটা আমরা নেই, এজন্য কাউকে জোর করা হয় না।’

এনজিও বা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সার্ভিস চার্জ নেওয়ার কোন নির্দেশনা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে লিলি দেউড়ী বলেন, ‘আমাদের এনজিওটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে কোন অর্থ না থাকায় ঠিকমতো আমাদের বেতন দেওয়া হয় না। তাই এনজিওর নির্দেশে সেবার বিনিময়ে আমরা কিছু টাকা চেয়ে নেই। ফান্ডে টাকা হলে এই বাড়তি টাকা আদায় করা হবে না।’

এ ব্যাপারে প্রগতি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ও পরিবার পরিকল্পনা সংস্থার নিকুঞ্জ শাখার অফিস সহকারী রিনা বেগম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কেউ যদি খুশি হয়ে টাকা দিতে চায় সেটা অবৈধ কিছু না। তবে আমাদের এনজিওর ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

এনজিও দুটিকে টিকাদানের দায়িত্ব দেয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবশ্য জানিয়েছে, সার্ভিস চার্জ বা কোনো নামেই টিকার বিনিময়ে টাকা আদায়ের সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমদাদুল হক  বলেন, ‘আমরা সম্পূ‌র্ণ বিনামূল্যে টিকা দেই এবং  এটা সবসময়ই চলমান। কারও কাছ থে‌কে টাকা নেয়া হচ্ছে এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। ভুক্তভোগী বা তার পক্ষ থে‌কে কেউ এসে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে  আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।'

গণমাধ্যমের তথ্যে আপনারা তদন্ত করবেন কি না- এমন প্রশ্নে নগর কর্তৃপক্ষের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভুক্তভোগীর লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ বা কোনো প্রামা‌ণ ছাড়া বিষয়‌টি নিয়ে তদন্ত করার কোন সুযোগ নেই।’

Post A Comment: