পৃথিবীতে এখনো অনেক জায়গা রয়েছে যেগুলোর রহস্য আজো গবেষকরা উদঘাটন করতে সমর্থ হয়নি।জেনে নিন রহস্যময় নিষিদ্ধ স্থান সম্পর্কে যা সবার কাছে অজানা :

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনঃ

রহস্যময় বাল্ট্রা দ্বীপের গল্প
প্রকৃতির বিচিত্র সৃষ্টি রূপে বেশ কিছু দ্বীপ অমীমাংসিত রহস্য হিসেবে আজ পর্যন্ত বিস্ময়ের সৃষ্টি করে রেখেছে। এর মধ্যেসবচাইতে উল্লেখযোগ্য হল বাল্ট্রা। এটি ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের একটি বিশেষ দ্বীপ। বাল্ট্রা মূলতমানববসতিশূন্য একটি দ্বীপ। দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের নিকটবর্তী ১৩টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ম্যালাপোগোস দ্বীপপুঞ্জ।আর এই ১৩টি দ্বীপের একটি হচ্ছে বাল্ট্রা।

কিন্তু এখানকার অন্য ১২টি দ্বীপ থেকে বাল্ট্রা একেবারেই আলাদা, অদ্ভুত এবং রহস্যময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কৌশলগত কারণে এই দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপে বিমানঘাঁটি স্থাপন করে মার্কিন সরকার। এরপর থেকেই বিশ্ববাসী জানতেপারে বাল্ট্রা দ্বীপের এই অদ্ভুত রহস্যের কথা। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়।বাল্ট্রা দ্বীপের গল্প 

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপারহলো বৃষ্টির এক ফোঁটাও পড়ে না বাল্ট্রাতে। কী এক রহস্যজনক কারণে বাল্ট্রার অনেক ওপর দিয়ে গিয়ে অন্যপাশে পড়েবৃষ্টি। বাল্ট্রার অর্ধেক পার হওয়ার পর অদ্ভুতভাবে আর এক ইঞ্চিও এগোয় না বৃষ্টির ফোঁটা। বৃষ্টি যত প্রবলই হোক এ যেনসেখানকার এক অমোঘ নিয়ম।

বাল্ট্রাতে এলেই অস্বাভাবিকআচরণ করে নাবিক বা অভিযাত্রীর কম্পাস। সবসময় উত্তর দিক-নির্দেশকারী কম্পাস এখানে কোনো সময় স্থির হয়েদাঁড়িয়ে থাকে। আবার দিক-নির্দেশক কাঁটা ইচ্ছেমতো ঘুরতে থাকে অথবা উল্টোপাল্টা দিক নির্দেশ করে। সবচেয়েরহস্যজনক ব্যাপার হলো বাল্ট্রা দ্বীপের ওপর বিমান থাকাকালীন সময়েও এমন অদ্ভুত আচরণ করে কম্পাস। আবার দ্বীপপার হলেই সব ঠিক। বাল্ট্রার আরেকটি অদ্ভুত দিক হল, এর মানসিক দিক। বাল্ট্রায় পা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে কারও মাথাঅনেক হালকা হয়ে যায়। অজানা-অচেনা কোন এক জায়গায় হারিয়ে যাওয়ার আশ্চর্য রকম অনুভূতি আচ্ছন্ন করে ফেলেমনকে।

বেশিক্ষণ এ দ্বীপে থাকলে দ্বীপ থেকে চলে আসার পর কিছুদিন সেই আশ্চর্য অনুভূতি থেকে যায়। পরে অবশ্য আস্তেআস্তে ঠিক হয়ে যায়। অদ্ভুত দ্বীপ বাল্ট্রায় কোন গাছ নেই। নেই কোনো পশুপাখি। কোনো পশুপাখি বোভেট দ্বীপএ দ্বীপে আসতেও চায়না। জোর করে এলেও কোনো পশুপাখিকে বসতি করানো যায়নি। দেখা গেছে, বাল্ট্রাকে এড়িয়ে পাশের দ্বীপ সান্তাক্রুজেরধার ঘেঁষে চলছে প্রাণীগুলো। শুধু তাই নয়, উড়ন্ত পাখিগুলোও উড়তে উড়তে বাল্ট্রার কাছে এসেই ফিরে যাচ্ছে। দেখে মনেহয় যেন কোনো দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে ওরা।

নরকের দরজা (Door to Hell ) তুর্কেমেনিস্তান 
তুর্কেমেনিস্তানের Darvaz শহরে অবস্হিত এটি একটি জ্বলন্ত গর্ত। জ্বলন্ত জায়গাটি Door to Hell নামে সুপরিচিত।নরকের দরজাটি ভয়ঙ্কর সুন্দর লাগে রাতে। তখন অনেক দূর থেকেই জায়গাটা তো দেখা যায়ই, এর শিখার উজ্জ্বলতাও ভালোমতো বুঝা যায়। সেখানকার উত্তাপ এত বেশি যে, কেউ চাইলেও ৫ মিনিটের বেশি সেখানে থাকতে পারবেন না। 

১৯৭১ সাল থেকে জায়গাটি অবিরত দাউ দাউ করে জ্বলছে।কারাকুম মরুভূমিতে অবস্থিত অগ্নিমুখটির ব্যাস ৭০ মিটার ও গর্ত ২০ মিটার দীর্ঘ। যদিও এটি প্রাকৃতিক কোন গর্ত নয়। ১৯৭১ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ দারউয়িজি এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের সময় অনুসন্ধানকারীরা গ্যাসবহুল গুহার মধ্যে মৃদু স্পর্শ করলে দুর্ঘটনাক্রমে মাটি ধসে পুরো ড্রিলিং রিগসহ পড়ে যায়। পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস প্রতিরোধ করার জন্য ভু-তত্ত্ববিদগণ তখন গ্যাস উদগীরন মুখটি জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা আশা করেছিলেন যে, এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস উদগীরন বন্ধ হবে। কিন্তু তার আর হয়নি। গত ৪০ বছর ধরে অগ্নিমুখটি অনবরত জ্বলছে। ১৯৭১ সালে এখানে গ্যাস খনির সন্ধান মেলে। প্রাথমিকভাবে গবেষনা করে বিষাক্ত গ্যাসের ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত হন যার পরিমান ছিল সীমিত। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, এই গ্যাস জ্বালিয়ে শেষ করা হবে ফলে এর বিষাক্ততা ছড়ানোর সুযোগ পাবে না। এরপর এখানে গর্ত করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু গবেষকদের অবাক করে দিয়ে তা এখনও অর্থাৎ ৪০ বছর ধরে একাধারে জ্বলছে। অথচ গবেষকরা নিশ্চিত ছিলেন যে, অল্প কয়েকদিন মধ্যে এই গ্যাস শেষ হবে এবং আগুন নিভে যাবে। 

ভয়াবহ ফুটন্ত কাদার দৃশ্য
ভয়াবহ কিছু দৃশ্য রয়েছে যেগুলো দেখলে গা শিউরে ওঠে। এমনই এক ভয়াবহ ফুটন্ত কাদার দৃশ্য যে কাওকে ভীত সন্ত্রস্ত্র করে তুলবে।

ভয়াবহ কিছু দৃশ্য রয়েছে যেগুলো দেখলে গা শিউরে ওঠে। এমনই এক ভয়াবহ ফুটন্ত কাদার দৃশ্য যে কাওকে ভীত সন্ত্রস্ত্র করে তুলবে। এমন কাঁদার দৃশ্য দেখে সকলেই হতবাক হয়েছেন।

পৃথিবীতে প্রকৃতির রহস্যের যেনো শেষ নেই। খুব সাধারণ কোনো জিনিসকেও অসাধারণ বানিয়ে দিতে পারে প্রকৃতি। এমনই এক ফুটন্ত কাঁদা যেটি পৃথিবীর ভয়াবহ দৃশ্য বললেও ভুল হবে না।

আমরা যানি বৃষ্টির দিনে কাদা হয়। কিন্তু তাই বলে গরমের দিনে কাদা! আবার কাদাও কি গরম পানির মতো ফুটতে পারে? সত্যিই তাই। কাদা ফুটছে গরম পানির মতোই। এমন দৃশ্য দেখে সবাই হতবাক। এমন বিস্ময়কর ঘটনাও ঘটছে পৃথিবীতে।

নিউজিল্যান্ডের রোটোরুয়ার টউপো হ্রদে এমন অবাক করার মতো দৃশ্য চোখে পড়ে। এখানে গেলে ফুটন্ত কাদামাটি দেখা যায়। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, মূলত মাটির নিচে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকার কারণেই উপরে কাদা ফুটতে থাকে অনবরত। আবার কিছু জায়গায় অবশ্য পানিও ফুটছে, কিন্তু সেই জায়গাগুলোতে শুধু ধোঁয়া দেখা যায়। শুধু নিউজিল্যান্ডই নয়, বিশ্বের আরও অনেক জায়গাতেই এমন প্রাকৃতিক ফুটন্ত কাদা দেখা যায়। তাই আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।


বারমুডা ট্রায়াঙ্গল পাপাত্মাদের ত্রিভুজ
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মানেই একটি রহস্যের ভান্ডার। সত্যিই কি বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কোন রহস্য আছে? আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বকূলে একটি বিশেষ সাগর সীমানার নাম হচ্ছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। এই বিশেষ অঞ্চলকে অনেকে শয়তানের ত্রিভুজ হিসেবে নামকরন করেন। এটিকে পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় স্থান বলে মানা হয়। কারণ এ পর্যন্ত এখানে যত রহস্যময় ও কারণহীন দুর্ঘটনা ঘটেছিল, অন্য কোথাও এত বেশি দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা একে বলেন শয়তান বা পাপাত্মাদের ত্রিভুজ। 

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল একটি ভয়ঙ্কর স্থানের নাম। যা ‘শয়তানের ত্রিভূজ’ নামেও পরিচিত। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চল। যেখান বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।

পুয়ের্তো রিকো, মায়ামি এবং বারমুডা- তিনদিকে এই তিনটি জায়গাকে রেখে যদি সরলরেখা টানা হয়, তাহলে সমুদ্রের উপরে যে ত্রিভূজ দাঁড়ায়, তা-ই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল হিসেবে পরিচিত। 

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল স্থানটি ভয়ঙ্কর ও কুখ্যাত হয়ে আছে। কারণ ওই এলাকায় বহু জাহাজ এবং বিমান নিখোঁজ হয়েছে। সমুদ্রের তলদেশে বিশাল প্রাণি থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, ঝড়- বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ঘিরে ছিল সীমাহীন রহস্য। এতো দিন এর সঙ্গে চলে এসেছে নানাবিধ ব্যাখ্যা।


রহস্যময় সাইলেন্স জোন
পৃথিবীতে এখনো অনেক জায়গা রয়েছে যেগুলোর রহস্য আজো গবেষকরা উদঘাটন করতে সমর্থ হয়নি। মেক্সিকোর জোন অব সাইলেন্স এরকমই একটি রহস্যময় এলাকা। মূলত মেক্সিকো মরুভূমির ধ্রুপদী নামই জোন অব সাইলেন্স বা নীরব ভূমি। এই নীরব মরুতে সব সময়ই অদ্ভূত ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এর চারিদিকে খুটখুটে অন্ধকার, রহস্যময় ভুতুড়ে পরিবেশ সেই সাথে রাতের গুমোট আঁধারে উল্কা বৃষ্টি নামে। সেখানে যদি কেউ টেপ রেকর্ডার বাজাতে থাকে তাহলে হঠাৎই সেটা বন্ধ হয়ে যাবে। এ এলাকায় চলন্ত গাড়ির স্টার্ট হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়। এই অদ্ভূত সব আজব রহস্য আজো উন্মোচিত হয়নি। জোন অব সাইলেন্স ও কুখ্যাত বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল একই অক্ষাংশে। সেন্ট্রাল মেক্সিকোর মাসিপি মরুভূমির দশ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এ নীরব ভূমিতে এসব অদ্ভূত ঘটনার পাশাপাশি রয়েছে আজব সব প্রাণীর আনাগোনা। স্বাভাবিক পোকামাকড়ের চেয়ে এই মরুভূমির পোকামাকড়গুলো দুই তিনগুণ বড়। এখানে প্রায় প্রতিদিনই রাতের বেলায় উল্কাপিন্ড আছড়ে পড়ে।

জোন অব সাইলেন্সের পাথরগুলো এমন ভুতুড়ে যে, কম্পাস পর্যন্ত অকেজো হয়ে যায়। এ এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় পাইলটরা অভিযোগ করেন, তাদের সবকিছু কেমন যেনো বিভ্রান্তিকর মনে হয়।

এখানকার দৈত্যকার ক্যাকটাস গাছগুলো দেখতে টকটকে লাল রঙ্গের। কিন্তু এই গাছই যখন এ এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তা সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক রং হারিয়ে ফেলে। মানুষের কব্জির মতো মোটা এ এলাকার বেঁটে হরিণগুলোর শিং। আর এ এলাকার বিছা গাছগুলো লম্বায় এক ফুটের কম নয়। বিছাগুলোর মাথা টকটকে লাল। জোন অব সাইলেন্সের এমন অদ্ভূত ও ভয়ঙ্কর পরিবেশের কারণে কোনো মানুষ বসতি গড়ার স্বপ্ন দেখেনি।

Post A Comment: