পাহাড়ের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে তিল বেশ প্রচলন ছিল। তিলচাষে প্রচুর উৎপাদন ও চাহিদা থাকায় মূলত চাষীরা জুমে ধানের সঙ্গে তিল চাষ করতেন।
পাহাড়ে ফলন হচ্ছে না তিলচাষে 

পাহাড়ের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে তিল বেশ প্রচলন ছিল। তিলচাষে প্রচুর উৎপাদন ও চাহিদা থাকায় মূলত চাষীরা জুমে ধানের সঙ্গে তিল চাষ করতেন।


এতে কৃষকদের আয়ও বেশ ভালোই হতো। কিন্তু কালের বিবর্তন তথা নানা কারণে প্রকৃতির উর্বরতা বিপর্যয়ে এখন আর পাহাড়ে এ অর্থকরী ফসলের উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে এখন কৃষকদের এটি চাষ করতে তেমন আর দেখা যায় না। কিন্তু এ বছর ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান কাপ্তাই লেকের পাড়ে ঢালু পাহাড়ে করেছেন এ তিল চাষ। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর তিলের দাম বর্তমানেই প্রতিমণ সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এক সময় যে পাহাড়ে যত্নের সঙ্গে তিল চাষ করা হত এমন একটি পাহাড়ি এলাকা বেগেনাছড়ি মোন।

এখানকার কৃষক শান্তশীল চাকমা জানান, তিল গাছে এখন প্রচুর রোগ হয়। গাছগুলো বড় হতেই পাতাগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে। পরে আসতে আসতে গাছগুলো মরে যায়। কিছু কিছু গাছ বেঁচে গেলেও সেগুলোতে ভালো ফলন হয় না। আর এ রোগের কোনো প্রতিকার করা যায় না।

ফলে এখন তিল প্রায়ই আর চাষ হয় না। যার কারণে বর্তমানে এটি এখন বিরল এবং বিলুপ্ত হতে চলছে। তবে পাহাড়ের নিম্নাঞ্চলে এখনও তিলের কিছুটা ফলন হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পরিমল কান্তি ঘোষ বলেন, তিলের রোগ নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো কৃষক কোনো ধরনের পরামর্শ নিতে আসেনি। ফলে এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে আমি যেসব তিলচাষের ক্ষেত দেখেছি সেগুলোতে কোনো রোগবালাই আমি দেখিনি। তাই আমার মনে হয় তিলচাষে যদি কোনো রোগ দেখা দেয়, তাহলে হয়তো বা ভালো বীজ না হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে।

Post A Comment: