সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশু রাবেয়াকে আটকে রাখার ঘটনায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে বুধবার বিকালে নয় দিন পর তাকে উদ্ধার করে তার মা লিমা বেগমের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
 

সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশু রাবেয়াকে আটকে রাখার ঘটনায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে বুধবার বিকালে নয় দিন পর তাকে উদ্ধার করে তার মা লিমা বেগমের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।


উপজেলার বকসির ঘটিচোরা গ্রামের অভিযুক্ত স্বামী শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রশিদের মেয়ে লিমা বেগমের সাথে উপজেলার বকসির ঘটিচোরা গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে মো. শহীদুল ইসলামের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৭৬ হাজার টাকাসহ অন্যন্য মালামাল প্রদান করে লিমার পরিবার। লিমা ও শহিদুলের সংসারে গত সাত মাস আগে রাবেয়া নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সম্প্রতি তার স্বামী ব্যবসার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তার পরিবারের কাছে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায়  শহিদুল স্ত্রীর ওপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

গত ৩০ অক্টোবর শহীদুল যৌতুকের জন্য স্ত্রীর ওপর চাপ দেয়। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায় স্ত্রীকে মারধর করে দুগ্ধপোষ্য শিশু কন্যাকে আটকে রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় লিমাকে। পরে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে লিমা ব্যর্থ হয়ে

শিশুটির মা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শিশুটিকে উদ্ধারসহ স্বামী শহিদুল ও শ্বশুর নয়া মিয়াকে আসামি করে গত ৭ নভেম্বর মামলা করেন। আদালত শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজিরের জন্য মঠবাড়িয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ পেয়ে বুধবার বিকালে পুলিশ অভিযুক্ত শহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এসময় শহিদুল ও তার বাবা নয়া মিয়া পালিয়ে যায়।

নির্যাতিত গৃহবধূর দিনমজুর বাবা আব্দুর রশিদ জানান, বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য ৭৬ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছি। পরে জামাই শহিদুল গরুর ব্যবসার কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। দিতে না পারায় মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে। আমার দুগ্ধপোষ্য নাতনিকে আটকে রেখে আমার মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর আদালতের বিচারক জি.এম. সরফরাজ শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন। পরে শিশুটিকে মায়ের কোলে তুলে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শহিদুল ও তার বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

Post A Comment: