হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন উপ-ডাকঘর। শতবর্ষী এই ডাকঘরের এতই বেহাল দশা যে যেকোনো সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এর মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে দাফতরিক কাজ এবং বসবাস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
Post-office-activities-in-the-risky-building 

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন উপ-ডাকঘর। শতবর্ষী এই ডাকঘরের এতই বেহাল দশা যে যেকোনো সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এর মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে দাফতরিক কাজ এবং বসবাস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


শায়েস্তাগঞ্জ উপ-ডাকঘরটি সংস্কারের জন্য গত ১৫ বছর ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এর কোনো বাস্তবায়ন নেই।

স্থানীয়রা জানান, জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী, বনাঞ্চল পাহার, চা বাগান ও শিল্পাঞ্চল যোগাযোগের একমাত্র রেল ও সড়ক পথের বাহন হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জ উপ-ডাকঘরটি। শত বছর আগে ব্রিটিশ শাসনামলে এই উপ-ডাকঘরটি টিনসেট ও বাঁশের বেড়া দিয়ে স্থাপিত হয়।

পরে জিয়াউর রহমান সরকার আমলে উপরে ছাদ দিয়ে পাকা ভবন তৈরী হয়। এরপর থেকে এই উপ-ডাকঘর ভবনের কোনো প্রকার সংস্কার করা হয়নি। ভেতরে ছাদের অধিকাংশ স্থান ধসে পড়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে ভিম ও পিলার গুলো। উঠে গেছে পুরো ভবনের আস্তর ও নিচের ফ্লোর দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেয়। বৃষ্টি হলে ছাদের উপর হতে পানি পরে। এতে করে ডাকঘরের সব কাগজপত্র ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে কোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, এ ডাকঘরের অধীনে ১৪টি শাখা অফিস রয়েছে। এখানে একজন পোষ্টমাস্টার, দুই জন পোষ্টম্যান, ৩ জন রানার, ১ জন সহকারী পরিদর্শক, দুই জন অপারেটর, একজন নাইট গার্ড ও একজন সুইপার রয়েছে। বর্তমানে ডাকঘরের ভেতরে ই-পোষ্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এদিকে রেলওয়ে স্টেশনে মেইল সার্ভিস (ডাক বাছাই কেন্দ্র) না থাকায়, উপ-ডাকঘরের পুরাতন টিনসেড ভবনে আর.এম.এস অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকার শতকরা ২০ ভাগ লোক প্রবাসী, ৪০ ভাগ লোক সরকারি-বেসরকারি চাকরি করছেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। সবার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এটি। এছাড়াও এই উপ-ডাকঘরে লোকজনের ডিপোজিট ও মোবাইল ব্যাংকিংসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকাণ্ডে হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে এই ডাকঘরটি অন্যতম।

শাহিন আহমেদ নামের এক গ্রাহক বলেন, প্রতি সপ্তাহে দু‘একবার পোস্ট অফিসে আসতে হয়। ভবনের মেঝে ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তে পরিণত হয়েছে এবং ছাদ থেকে বালু ঝুরঝুর করে মাথায় পড়ে। এ ভবনটির দ্রুত সংস্কার করা দরকার।

গ্রাহক মামুন মিয়া বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের পোষ্ট অফিসে আসতে হয়। ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পোষ্ট মাষ্টার পিযুষ সূত্রধর জানান, এই উপ-ডাকঘরটি সার্বিক অবস্থা বিষয়ে বিগত দায়িত্বরত ১৫ জন পোষ্ট মাস্টার জেলা ডি.পি.এম.জি কে জানিয়েছেন। এই ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো প্রকারের উন্নয়ন কার্যক্রম হয়নি।

Post A Comment: