স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মন্তব্য করে বলেন, বিজয় দিবসের কোনো অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধীরা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। এমনকি অতিথি হিসেবেও থাকতে পারবেন না। আমরা বিগত সময়ে দেখেছি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়েছে।
‘বিজয় দিবসের কোনো অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধীরা নয়’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মন্তব্য করে বলেন, বিজয় দিবসের কোনো অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধীরা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। এমনকি অতিথি হিসেবেও থাকতে পারবেন না। আমরা বিগত সময়ে দেখেছি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিজয় দিবস- ২০১৭’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্মৃতিসৌধের পুরো রাস্তায় ১৪টি ওয়াটার ট্যাংক, পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য রেসকিউ ইকুইপমেন্ট নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রস্তুত থাকবে। সঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত থাকবেন। হাতিরঝিল ও ধানমন্ডি এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা প্রস্তুত থাকবে।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সড়ক পথে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়া-আসার সময় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাভার স্মৃতিসৌধ ও জাতীয় প্যারেডসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের নিকটবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের সাউন্ডবক্স বাজানো যাবে না। সারাদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে বিজয় দিবস ও এই জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় মেডিকেল টিম কাজ করবে। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্লাগ রুলস অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে।

বিগত যেকোনো সময়ের মতোই কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু কিশোর শোধনাগারে উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, বিদেশি কূটনৈতিকদের বিশেষ টহলের মাধ্যমে সাভারে পুষ্পস্তবক অর্পণের ব্যবস্থা করা হবে। স্মৃতিসৌধ ও প্যারেড স্কোয়ারসহ প্রয়োজনীয় স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিক্যামেরা স্থাপন করা হবে। স্মৃতিসৌধ গমনের পথে এবং সারা দেশে কোনো ওভার হেডিং তোরণ নির্মাণ করা যাবে না। স্মতিসৌধ গমণের সময় ব্রিজের নিচেও নৌপুলিশের টহল থাকবে।

বিজয় দিবসে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের সাতদিন আগেই নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অবহিত করতে হবে বলে তিনি জানান।

রংপুরের হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেফতার টিটু রায় যে মুঠোফোনটি ব্যবহার করতেন তার মাধ্যমে একটি আপত্তিকর ছবিসহ কোটেশন বের হয়েছিল। সে কোটেশনকে সূত্র ধরেই এ ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি বলেন, টিটু রায় ঐ এলাকায় থাকতেন, কিন্তু চার-পাঁচ বছর আগে থেকে সেখানে থাকতেন না, যা আমরা পরবর্তীতে জানতে পেরেছি। এই বিষয়গুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে এটি বড় ধরনের একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তারপরও তদন্তের আগে অফিসিয়ালি কিছু বলতে পারছি না।

Post A Comment: