ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে আলোকছিপি গ্রামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাড়িতে অনশন করছেন তা প্রেমিক রুবেল হোসেন (২২)।
 

ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে আলোকছিপি গ্রামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাড়িতে অনশন করছেন তা প্রেমিক রুবেল হোসেন (২২)।


বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা থেকে রুবেল ওই স্কুলছাত্রীকে স্ত্রী দাবি করে অনশন শুরু করেছেন। তিনি একই উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কাচকালি গ্রামের আসির উদ্দিনের (কালু) ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের আলোকছিপি গ্রামের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটিকে একই উপেজলার ভানোর ইউনিয়নের কাচকালি গ্রামের আসিরউদ্দিনের ছেলে অনার্স পড়ুয়া রুবেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি তারা বিয়ে করতে চাইলে মেয়েটির বাবা বিয়ের বয়স হয়নি বলে মেয়েকে শাসন করেন।

কয়েক দিন পর অভিমানে ওই স্কুলছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে চিকিৎসা করা হয়।

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর স্কুলছাত্রী রুবেলের সঙ্গে গোপনে যোগাোযোগ অব্যাহত রাখে বলে স্কুলছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রুবেল ওই স্কুলছাত্রীকে স্ত্রী দাবি করে তাদের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। মেয়ের বাবা রুবেলের কাছে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে কাগজপত্র দেখতে চাইলে অনশন থাকা অবস্থা পর্যন্ত বিয়ের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
 


অনশনরত যুবক রুবেল জানান, দীর্ঘদিন প্রেমের পর সম্প্রতি কোর্টের মাধ্যমে ওই মেয়েকে বিয়ে করি। তাই নিজ স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু, তার বাবা আমার স্ত্রী দাবি মানতে নারাজ।

আদালতের কাগজপত্র আনার ব্যবস্থা করছেন রুবেল। স্ত্রীকে না নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

এ বিয়ষে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে পরিবারের সদস্যদের বাধার কারণে সম্ভব হয়নি।

মেয়েটির বাবা জানান, তার মেয়ে মাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ে। এখনও সে নাবালিকা, বিয়ের বয়স হয়নি। রুবেল নামে ছেলেটি আমার মেয়েকে স্ত্রী দাবি করছে। কিন্তু, কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই।

তিনি বলেন, ‘রুবেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। তারা আসলে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, অনশনের বিষয়টি জেনেছি। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কারও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছেলেটি এখনও অনশন অবস্থায় মেয়ের বাড়িতে আছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মেয়ের বাবা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।

Post A Comment: