খুলনার দুইটি জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকরা বুধবার এবং ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার উৎপাদন বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
 


খুলনার দুইটি জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকরা বুধবার এবং ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার উৎপাদন বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।


শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই মিলের শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। দুটি মিলে উৎপাদিত পণ্য রয়েছে শত কোটি টাকার বেশি বলে মিল সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে মিল গেটের বকুলতলায় বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে মিল এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মিল এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে ছয়টি। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন বকেয়া রয়েছে দুই মাসের। শ্রমিক কর্মচারীদের এই বিপুল পরিমাণ মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পরেছেন বিপাকে। শুধু তাই নয়, এই মিলে শ্রমিকদের গচ্ছিত আমানত পিএফএর লোন দীর্ঘ চার মাস বন্ধ রয়েছে।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের ডিজিএম আহমেদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের ছয় সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দেড় কোটি টাকা মজুরি হিসেবে প্রদান করা হয়। আর দুই মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ এক কোটি টাকার বেশি বকেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মিলে উৎপাদিত পণ্য রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকার। তবে বেশ কয়েকদিনের ছুটির ফাঁদে পড়ে বকেয়া হয়েছে সবকিছু।

এর আগে বুধবার দুপুর ২টায় বিপুল পরিমাণ মজুরি বকেয়া থাকায় প্লাটিনাম জুটমিলের উৎপাদন বন্ধ করে টায়ার জ্বালিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করেন। বৃহস্পতিবারও মিলটির উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা মিল এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

প্লাটিনাম জুট মিলের জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহজাহান জানান, মজুরি আর বেতন বাবদ প্রায় দশ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে মিলে উৎপাদিত পণ্য রয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্তির কারণে এই শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

Post A Comment: