অন্যের অপরাধের মাশুল দিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক বৃদ্ধ। আসামির সঙ্গে মিল থাকায় পুলিশ ভুল করে আব্দুল আলিমকে (৭২) গ্রেপ্তার করে। ৯ দিন পর অন্যের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।
 

অন্যের অপরাধের মাশুল দিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক বৃদ্ধ। আসামির সঙ্গে মিল থাকায় পুলিশ ভুল করে আব্দুল আলিমকে (৭২) গ্রেপ্তার করে। ৯ দিন পর অন্যের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।


ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে ১৮ মার্চ রানীশংকৈল উপজেলার চন্দনচহট গ্রামের মৃত কুসুম উদ্দীনের ছেলে আব্দুল আলিম নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে হুক লাগিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। এতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ হাজার ২৮০ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। পরে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন এজিএম রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দিনাজপুর বিদ্যুৎ আদালতে মামলা করেন।

বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএমকে আদালত শোকজ করেন।


এ অবস্থায় কুসুম উদ্দীনের ছেলে আব্দুল আলিম নামে চন্দনচহট গ্রামে কোনো ব্যক্তি নেই হানিয়ে পুলিশ ২০১৬ সালে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহেরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নেয়।

এদিকে, গত ৬ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল খান পুলিশ ওই উপজেলার চন্দনচহট গ্রামের আব্দুল আলীম (৭২) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এই আব্দুল আলিমের বাবার নাম কলিম উদ্দিন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহেরুল ইসলাম জানান, পুলিশ যে আব্দুল আলীমকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে, তার বাড়িতে বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে এবং তার হিসাব নম্বরে এক টাকাও বাকি নেই। তিনি কখনই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেননি।

পুলিশ প্রকৃত আসামিকে খুঁজে না পেয়ে একজন বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। ৯ দিন তাকে হাজতবাস করতে হয়েছে। আদালত আলিম উদ্দীনকে জামিন দিলে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তবে রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, আদালতের সংশোধিত ওয়ারেন্ট মূলে আসামি আব্দুল আলিমকে (বাবা কলিম উদ্দীন) গ্রেপ্তার করা হয়। এখানে ভুলের কিছু নেই।

Post A Comment: