বজন ও হাজারো মানুষের চোখের জলে বিদায় নিলেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. মনোয়ার হোসেন।
 

বজন ও হাজারো মানুষের চোখের জলে বিদায় নিলেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. মনোয়ার হোসেন।


রবিবার রাতে বরিশালের চন্দ্রমোহন অলিশিয়া জৈনপুরি খানকা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনা সদস্যরা তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে মালিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি সেনা সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে মনোয়ারও ছিলেন।

মনোয়ারের গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন গ্রামে। তবে বরিশাল নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ডে শের-ই-বাংলা সড়কের নতুন বাড়িতে বসবাস করত তার পরিবার। গত রমজান মাসের প্রথম দিকে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেন তিনি।

মনোয়ার হোসেনের খালু আব্দুল জলিল মৃধা বলেন, ২০০৩ সালে মনোয়ার হোসেন সেনাবাহিনীতে চাকরি নেয়। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট থেকে রমজানের প্রথম দিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে মালিতে যান।

মনোয়ার হোসেনের মা রওশন আরা বেগম বলেন, তার বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন ২০০০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ পরীক্ষার দেয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। তার স্বামী ২০০৩ সালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে ডিউটিরত অবস্থায় আগারগাঁও বস্তিতে দুই গ্রুপ সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এরপর মেঝো ছেলে মনোয়ার হোসেনের মৃত্যু তার সব স্বপ্ন ধুলিস্মাৎ করে গেল।

মনোয়ারের স্ত্রী ইভা আক্তার বলেন, নিহত হওয়ার আগের বৃহস্পতিবার বিকালেও তার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ক্যাম্পে ফিরে গিয়ে কথা বলেছেন। এরপর শনিবার বিকালে সেনা সদরদপ্তর থেকে তার কাছে ফোন করে মনোয়ার হোসেনের ভাই ও বোনের মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়। তখনই তার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। এখন দুই অবুঝ শিশু সন্তান নিয়ে কি করবেন এই চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে ইভা আক্তারের মনে।

একমাত্র বোন জোহরা বেগম বিলাপ করছেন আর বলছেন, ‘বড় ভাই, বাবা এরপর মেঝো ভাই মারা গেল। কারোর সেবা করার সুযোগ পাইনি। এখন ছোট ভাই আর আমি রয়েছি।’

বিলাপ করছেন স্বজন ও এলাকাবাসীও। সদা হাস্যেজ্জ্বল ও বিনয়ী মনোয়ারের মৃত্যু তারাও যেন মেনে নিতে পারছেন না।

৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ বলেন, শনিবার বিকালে মরদেহ মালি থেকে ঢাকায় পৌঁছে। রবিবার সকালে সেনাসদর দপ্তরে জানাযা শেষে মরদেহ নিয়ে মনোয়ারের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত আটটায় জানাজা শেষে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

Post A Comment: