মহান মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিনের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আবুল হাসেম। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজের নামটি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেননি তিনি। ফলে নানা ক্ষোভ আর হতাশার মধ্যে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে। বেঁচে থাকার তাগিদে অন্যের কাছে হাত না পেতে বনজি লতা পাতা দিয়ে নিজের হাতে তিনি তৈরি করেন সালসা। আর সেই সালসা বিক্রি করেই চলেই আবুল হাসেমের সংসার।
 

মহান মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিনের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আবুল হাসেম। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজের নামটি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেননি তিনি। ফলে নানা ক্ষোভ আর হতাশার মধ্যে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে। বেঁচে থাকার তাগিদে অন্যের কাছে হাত না পেতে বনজি লতা পাতা দিয়ে নিজের হাতে তিনি তৈরি করেন সালসা। আর সেই সালসা বিক্রি করেই চলেই আবুল হাসেমের সংসার।


দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন অথচ জীবন সায়াহ্নে এসে তিনি একজন সালসা বিক্রেতা। কাউখালি বাজার রোডে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাঁকডাক দিয়ে তিনি বলছেন, ভাই একটা সালসা নেন।

মঙ্গলবার আবুল হাসেমের সালসা কেউ যখন কিনছিল না তখন ওই পথ দিয়ে যাওয়া কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল লতিফ খসরু মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়া আবুল হাসেমের সকল সালসা কিনে নিয়ে যান।
 


তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি তিনি মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় তার বাড়িঘর সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বাবা-মাকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আজকে অনেক মুক্তিযোদ্ধা দেখি। কিন্তু আফসোস আবুল হাসেমের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। তাকে সাহায্য করার অন্য উপায় তো নেই, তাই তার সব সালসা কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

তবে আশার বানী হচ্ছে অনেক কষ্ট ও ঘোরাঘুরির পর আবুল হাসেমের নামটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি গত কয়েক মাস আগে নতুন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করণের জন্য সুপারিশ সহকারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো খবর তিনি পাননি।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামে বাড়ি হলেও স্ত্রী সাহা বানু, ছেলে হেলালকে নিয়ে ঠাই হয়েছে চিরাপাড়ার নিভৃত এক চরে। এই মুক্তিযোদ্ধার চার মেয়ে বিবাহিত। বড় ছেলে হেলাল কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, ছোট ছেলে দেলোয়ার জাহাজ শ্রমিক।
 


ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্যে যুদ্ধ করছি কিন্তু মুই নাকি মুক্তিযোদ্ধা না। এই কষ্টের কথা কারো কইমু। ব্যাংক থেকে সকল মুক্তিযোদ্ধারা ভাতার টাকা তুলে নেয় কিন্তু মুই নিতে পারলাম না। কতদিন মুই আর পথে পথে সালসা বেছমু?’

আবুল হাসেম আরো বলেন, ‘দেশের জন্যে যুদ্ধ কইরা মুই সব হারাইছি। যুদ্ধ করার কারণে পাকবাহিনী আমাগো ঘর জ্বালাইয়া দিছে। আমার বাপেরে মাইরা ফালাইছে। মারে ক্যাম্পে নিয়া নির্যাতন করেছে অথচ এহন মুই না খাইয়া থাহি। মোর আর কষ্ট সহ্য হয়না, আইজগো হগোল সালসা খসরু বাবায় কিননা নেছে মুই যে কি খুশি হইছি মুউ কইতে পারমু না। পিরোজপুরের বড় স্যারে ( ডিসি) মোরে মাঝে মাঝে টাহা পয়সা দেছে। কাউখালির বড় স্যারে (নির্বাহী অফিসার) মোরে টাহা পয়সা দেছে। মরণের আগে মুই তালিকায় মোর নামডা দেইখা যাইতে চাই। এইডাই মোর বড় আশা।
 


কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আলী হোসেন তালুকদার বলেন, ‘তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সুন্দরবনে নৌকায় করে মুক্তিযোদ্ধাদের পার করতেন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পে অস্ত্র সরবরাহ করতেন। তিনি অনেক অপারেশনেও অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধ করার কারণে ওই সময়ে তার পরিবার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতদিনেও তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এবং তার অসহায়ত্বের জীবন দেখে আমরা সত্যিই মর্মাহত।’

Post A Comment: