বগুড়ার গাবতলী ৫০ শয্যা হাসপাতালে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে রোগীরা। মানসম্মত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে হাসপাতালে সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টা ইসিইজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ডায়াবেটিক, এনসিটি, আইএমসিআই, ব্রেস্টফিডিং রুমসহ ৬টি আউটডোর কর্নার চালু করা হয়েছে।
Modern-and-advanced-treatment-in-Gabtali-Hospital

বগুড়ার গাবতলী ৫০ শয্যা হাসপাতালে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে রোগীরা। মানসম্মত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে হাসপাতালে সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টা ইসিইজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ডায়াবেটিক, এনসিটি, আইএমসিআই, ব্রেস্টফিডিং রুমসহ ৬টি আউটডোর কর্নার চালু করা হয়েছে।


এছাড়া ক্যান্সার স্ক্যানিং পরীক্ষাসহ (ভিআইএ) সব প্যাথলজি পরীক্ষা হাসপাতালেই করা হচ্ছে। আর ভর্তি রোগীদের শতভাগ ওষুধ, মানসম্মত খাবার প্রদান ছাড়াও প্রতিদিন বহির্বিভাগে দেড় শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

বগুড়া জেলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গাবতলী উপজেলা। উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষকে সেবা প্রদান করে আসছে ৫০ শয্যা হাসপাতাল। শুরুতে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এটি ৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। এরপর চলতি বছর ডায়াবেটিক, এনসিটি, আইএমসিআই, গর্ভীবতী চেকআপ (এএনসি), গর্ভবতী সেবা ( পিএনসি), অসংক্রমিত রোগের সেবা (এনসিটি), অসুস্থ শিশু সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা (আইএমসিআই), পানি শূন্যতা, রোগীদের মুখে স্যালাইন খাওয়াসহ (ওআরটি) ৬টি আউটডোর কর্নার চালু করা হয়েছে।

গত দুই মাস আগে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন স্থাপন করার পর হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

এছাড়া ক্যান্সার স্ক্যানিং পরীক্ষাসহ (ভিআইএ) সরকার নির্ধারিত সকল প্যাথলজি পরীক্ষা হাসপাতালেই হয়ে থাকে। আন্তঃবিভাগে বেড ক্যাপাসিটি ৬০ ভাগ থেকে ৯০ ভাগে উন্নতি করা হয়েছে। ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের ওষুধই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তাছাড়া বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগীরাও অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকেই পেয়ে থাকেন।

হাসপাতালে ভর্তি টুকু মিয়া (৬৫) জানান, তিনি ৫ দিন এই হাসপাতালে আছেন। যেসব পরীক্ষা প্রয়োজন, তা হাসপাতালেই হচ্ছে এবং ওষুধও এখান থেকেই বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

প্রসূতি রোগী রিতা (২৪) জানান, তিনি দু’দিন হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সকাল-বিকেল চিকিৎসক ও নার্সরা খোঁজ-খবর নেন। সময় মত ওষুধ ও মানসম্মত খাবার দেন।

গাবতলী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মানিক কুমার পাল জানান, গাবতলী উপজেলাবাসীকে উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদানে ডা. আমায়াত-উল-হাসিনের নির্দেশে প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সব ধরনের প্যাথলজি পরীক্ষা এখানেই হয়ে থাকে। আমরা ভালো মানের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

হাসাপাতালের কনসালটেন্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ ফেরদাউস জানান, রোগ নিয়ন্ত্রণে এখানে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বসানো এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এখন আর রোগীদের বগুড়া শহরে যেতে হচ্ছে না।

গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমায়াত-উল-হাসিন জানান, চলতি বছরের ৫ মার্চ এই হাসপাতালে যোগ দিয়েছি। এরপর থেকে মানসম্মত চিকিৎসাকে জনগণের দ্বোরগৌড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, তার এই প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন বগুড়া সিভিল সার্জন ডা. মো. শামসুল হক, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু প্রমুখ।

ডা. আমায়াত-উল-হাসিন বলেন, ‘চলতি বছর এই হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ইসিইজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৬টি আউট ডোর কর্নার চালু করা হয়েছে। জরুরি রোগীদের প্রায় শতভাগ এবং বহির্বিভাগে প্রাথমিক পর্যায়ের সকল ওষুধ হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে ক্যান্সার স্ক্যানিং পরীক্ষা (ভিআইএ) করা হচ্ছে, যা বগুড়া শহরের মাত্র দুটি হাসপাতালে রয়েছে। ৭ দিনই ইপিআই কর্মসূচি চালু রয়েছে। হাসাপাতালে প্রতি মাসে আন্তঃবিভাগে সাড়ে ৩ শতাধিক এবং বহির্বিভাগে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।’

Post A Comment: