কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ায় হাবিবুর রহমান (২৬) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
 


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ায় হাবিবুর রহমান (২৬) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজাদ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তিনি দক্ষিণ সোনাপুর গ্রামের আলী এরশাদের ছেলে।

নিহত হাবিবুর রহমান উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে হাবিবুর রহমানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান হাবিবুর রহমান।

মঙ্গলবার সকালে নিহতের ভাই কামাল উদ্দিন জানান, হাবিবুর রহমান জগন্নাদীঘি ইউনিয়নের কাকৈরখোলা কমিউনিট ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। তিনি দীর্ঘদিন আতিকুল ইসলাম আজাদ, মোতালেব হোসেন, মো. ইয়াছিন, ছালেহ আহমেদ সুবজ কর্তৃক স্থানীয় মেয়েদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এ নিয়ে হাবিবের ওপর ক্ষিপ্ত হন তারা।

এক পর্যায়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে হাবিব, তার বন্ধু এমদাদুল হক জুয়েল ও নবী হোসেনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে স্থানীয় চৌধুরীবাজারে যাচ্ছিলেন।

পথে নারানকরা দক্ষিণ পাড়ায় রাস্তার ওপর ছাত্রলীগ নেতা আজাদের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। পরে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাবিবকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

কামাল উদ্দিন আরও জানান, এ সময় হাবিবের সঙ্গে থাকা জুয়েল ও নবীর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে হাবিবকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ রঞ্জন চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, এ ঘটনায় নিহত হাবিবের ভাই কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা আজাদ, মোতালেব, ইয়াছিন ও ছালেহ আহমদ সবুজের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

আসামি ছালেহ আহমদ সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

Post A Comment: