বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের হিসেবে ৪৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে যদি ৭০ শতাংশ করা হতো তাহলে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৫৬ পয়সার কমে বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।
If-subscriber-receives-power-of-Tk-156-less-then 


বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের হিসেবে ৪৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে যদি ৭০ শতাংশ করা হতো তাহলে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৫৬ পয়সার কমে বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।


বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি মিলনায়তনে বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) অনুরোধে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ভোক্তাদের গণশুনানিতে ক্যাব উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে পিডিবির চেয়ারম্যানের জবাবে এমন কথা উঠে আসে।

‘পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৩ শতাংশ ও ব্যয় হয় ২.০২ টাকা। যেখানে জ্বালানি খরচ ০.৮৪ টাকা। আর রেন্টালে জ্বালানি খরচ ০.৯০ টাকায় ৭০ শতাংশ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে তাদের খরচ হচ্ছে ৩.৩৭ টাকা। পিডিবির অধীনেই এই বিদ্যুৎ উৎপাদন যদি ৭০ শতাংশে উন্নীত করা হতো তাহলে জ্বালানি খরচ ০.৮৪ টাকাই থাকত। আর তাতে গ্রাহকরা ১.৫৫ টাকা কমে বিদ্যুৎ পেত কি না এবং পিডিবির ৭০ শতাংশ উৎপাদনক্ষমতা আছে কি না জানতে চান অধ্যাপক শামসুল আলম।

জবাবে পিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘৭০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা আমাদের আছে। কিন্তু আমাদের জন্য জ্বালানি (গ্যাস) যতটুকু বরাদ্দ রয়েছে তাতে ৪৩ শতাংশ উৎপাদন সম্ভব। গ্যাসের অভাবে আমরা এর বেশি উৎপাদন করতে পারি না।’

শামসুল আলম বলেন, ‘সরকারি খাতের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার সমতাভিত্তিক হলে এবং স্বল্পতম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতি গৃহীত হলে ভাড়া ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ  ক্রয় চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি হতো না। গ্যাসভিত্তিক ভাড়া-দ্রুতভাড়া বিদ্যুৎ ৩.৩৭ টাকা মূল্যহারে কেনার পরিবর্তে ওই গ্যাসে সরকারি খাতে ০.৮৬ টাকা জ্বালানি ব্যয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হতো তাহলে ১৩০১.৪১ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। নীট সাশ্রয় ৩৭১.৩১ কোটি টাকা।’

ক্যাব উপদেষ্টা বলেন, ‘দামি ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কম উৎপাদন করার নীতি গহণ করা হলে খলনা জিটি প্ল্যান্টে ৬৩৮.২৩ কোটি টাকা এবং ভাড়া-দ্রুত ভাড়া প্ল্যান্টে ১১৩.৭৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। অর্থাৎ মোট সাশ্রয় ৭৫২ কোটি টাকা।’

শামসুল আলম বলেন, ‘গ্যাসে মেঘনাঘাট আইপিপি’তে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, তাহলে ১৩৩২.৯৭ কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয় হতো। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানী দরপতন সমতাভিত্তিক সমন্বয় হলে বয় সাশ্রয় হতো ফার্নেস ওয়েল ভিত্তিক বিদ্যুতে ২১১০.৫১ কোটি টাকা ও ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুতে ৫৬০.৯৬ কোটি টাকা।’

শামসুল আলম বলেন, যদি আদর্শিকভাবে শুরু থেকেই জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রন করা হতো তাহলে বিদ্যুতের দাম এতে বাড়ত না। মাননীয় কমিশন দয়া করে এই খরচটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিবেন না। যতটুকু যৌক্তিক শুধু ততটুকুই দেন।’ 

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাত দিনব্যাপী গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বিদ্যুত খাতের কোম্পানিগুলো তাদের কর্মচারীদের অতিরিক্ত ভাতা-বেতন ও জ্বালানি খরচসহ আনুসাঙ্গিক খরচ বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরে বিদ্যুতের দাম ১৪ শতাংশ পিডিবির, নেসকোর ১৫.৩০শতাংশ, ডিপিডিসির ৬.২৪ শতাংশ  ও ১৫.৬০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)।

Post A Comment: