বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতাধীন নিবন্ধিত কোম্পানির কর্মকর্ত-কর্মচারীদের জন্য সরকার নির্ধারিত বেতনের অতিরিক্ত অর্থ গ্রাহকদের ট্যারিফে যুক্ত হলে তা মানা হবে না বলে জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম।
 

বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতাধীন নিবন্ধিত কোম্পানির কর্মকর্ত-কর্মচারীদের জন্য সরকার নির্ধারিত বেতনের অতিরিক্ত অর্থ গ্রাহকদের ট্যারিফে যুক্ত হলে তা মানা হবে না বলে জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম।


বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) বিদ্যুতের বিল বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রস্তারের গণশুনানিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামের মাধ্যমে এ কথা জানান তিনি।

গণশুনানির শেষ দিন আজ বুধবার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা নর্দার্ন ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) পক্ষ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৫.৩০ শতাংশ বা ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

পিডিবির আওতাধীন নিবন্ধিত কোম্পানিগুলো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাংশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন করছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো) এবং পল্লী অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ (আরইবি) যেসব কোম্পানি বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব পালন করে তাদের কর্মকর্তা-কর্মাচারীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি বেতনের বাইরেও অতিরিক্ত অর্থও ট্যারিফে যোগ করে জনগণ বা গ্রাহক থেকে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘আপনাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহের জন্য আপনারা যদি সরকারি বেতনের চেয়েও বেশি বাড়ান তাহলে সেটা আপনাদের বিষয়। এখানে সরকারি বেতনের বেশি অর্থ গ্রাহকদের থেকে কেন নেবেন। দুই দিন পরপর আপনাদের এই সমস্যা ওই সমস্যা বলে গ্রাহক পর্যায়ে কেন বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। প্রতিটি খাতেই তো সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা কেন সরকার থেকে সেগুলো নেয়ার ব্যবস্থা করছেন না। আমরা সরকারি বা পিডিবির মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দেব না।’

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মূলত ব্যবসামূলক প্রতিষ্ঠান। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের বিতরণ এলাকার পৌরসভাগুলো ঠিকমতো বিল পরিশোধ করছে না। অনেক পৌরসভার কাছে ৯ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়ে রয়েছে। এতে ২২১ কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।

নেসকোর এলাকায় নিম্ন আয়ের গ্রাহক বেশি উল্লেখ কলে জাকিউল ইসলাম বলেন,  ‘১২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৩ জন গ্রাহকের মধ্যে ৮০ শতাংশ গ্রাহক কৃষিজীবী, তাই পল্লী বিদ্যুতের মতো পাইকারি দামের কাঠামো হওয়া উচিত।’

এদিকে নেসকোর ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ইউনিটপ্রতি ৮৯ পয়সা হারে দাম বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট রাজস্ব চাহিদা ইউনিট প্রতি ৭.০৪ টাকা, বিদ্যমান ভারিত খুচরা ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৬.১৫ টাকা। বিদ্যুৎ ক্রয় খরচ ৬.০৫ ও নিট বিতরণ খরচ ০.৯৮ টাকা বিবেচনা মূল্যায়ন কমিটি এ মত দেয়।

Post A Comment: