খুলনার খালিশপুর থানায় ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই পরিবারটি খুলনা প্রেসক্লাবে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন।
 

খুলনার খালিশপুর থানায় ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই পরিবারটি খুলনা প্রেসক্লাবে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহম্মদের কন্যা সুমা আক্তার।

তিনি বলেন, গত ১৮ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ পিতার কাছে রিকশাযোগে যাওয়ার পথে গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ডের অদূরে তার ব্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই হয়। মোটরসাইকেলের আরোহী দুজন ছিনতাইকারী রিকশার গতি রোধ করে তার ব্যাগ টেনে নিয়ে যায়। এসময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা একজন ছিনতাইকারী ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে সুমার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে ধরে ফেলে। অপর ছিনতাইকারী সুমার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরদিন সকালেই ছিলো সুমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহম্মদের এমআরআই করার তারিখ। ওই ব্যাগেই ছিল টাকা-পয়সা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। স্থানীয় জনতা ঘটনা শুনে আটক ছিনতাইকারীকে গণধোলাই দেয়। এসময় উত্তেজিত জনতা ওই ছিনতাইকারীর চোখ উৎপাটনের কথা বলাবলি করছিল বলেও সুমা শুনেছে। এরপর সে অপর একটি রিকশাযোগে হাসপাতালে অসুস্থ পিতা কাছে চলে যায়।

খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসিম খান ছিনতাই মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, খবর পেয়ে খালিশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ছিনতাইকারীকে উদ্ধার করে। এসময় তার চোখ থেকে রক্ত ক্ষরণ দেখে খুমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানায় তার দুটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর ছিনতাইকারীর পরিচয় জানতে গিয়ে দেখা গেছে তার নাম শাহ জামাল ওরফে সুজন। খালিশপুর থানার নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির মো. জাকির হোসেনের ছেলে সে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় সুমা আক্তার বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে খালিশপুর থানায় মামলা করেন।

এদিকে শাহাজামালের চোখ উৎপাটনের ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর শাহজামালের মা রেনু বেগম খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে খালিশপুর থানার ওসি, ছিনতাই মামলার বাদী সুমাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)তে তদন্তনাধীন রয়েছে। মামলায় তাদের অভিযোগ খালিশপুর থানার পুলিশ শাহাজামালের চোখ উৎপাটন করেছে।

অপরদিকে খালিশপুর থানার ওসি জানান, শাহজামাল ওরফে সুজনের নামে কাউখালী, খুলনার ডুমুরিয়া ও কেএমপির বিভিন্ন থানায় নানা অপরাধের ৮টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুমা আক্তার দাবি করেন, বিভিন্নভাবে শাহজামালের সহযোগীরা তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেয়া হচ্ছে।

Post A Comment: