হৃদয়ের ভালোবাসায় সৃষ্টি হয় সত্যিকারের প্রেম। যে প্রেমিকা প্রেমিকের হৃদয়ে মায়ার বীজ বুনে তাকে যায় না কোনোদিন ভোলা। সে যেখানেই থাকুক কেন মন বারবার চায় তাকে দেখতে। সত্যিই এমন এক পাগল প্রেমিক ৩৬ বছর আগের প্রেমিকাকে এক নজর দেখার জন্য বাউল সেজে পথে-প্রান্তরে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
Asaduzzaman-looking-for-love-for-36-years 

হৃদয়ের ভালোবাসায় সৃষ্টি হয় সত্যিকারের প্রেম। যে প্রেমিকা প্রেমিকের হৃদয়ে মায়ার বীজ বুনে তাকে যায় না কোনোদিন ভোলা। সে যেখানেই থাকুক কেন মন বারবার চায় তাকে দেখতে। সত্যিই এমন এক পাগল প্রেমিক ৩৬ বছর আগের প্রেমিকাকে এক নজর দেখার জন্য বাউল সেজে পথে-প্রান্তরে ছুটে বেড়াচ্ছেন।


তিনি হলেন-আসাদুজ্জামান (৬৫)। তার বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাকিলা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কুদ্দুস আলীর ছেলে। বর্তমান তিনি বসবাস করছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সন্তোরার পাড় গ্রামে।

একতারা হাতে দারাজ কণ্ঠে একাকী গান গাওয়ার সময় দেখা হয় তার সাথে। কথা হলে পথের বাউল আসাদুজ্জামান কে জানান, তার বেঁচে থাকার সঙ্গী এখন একতারা। এই একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে তিনি ৪০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মনের মানুষ নীলা রাণীকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে বাউল সেজে খুঁজে বেড়িয়েও প্রেমিকা নীলা রাণীকে খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি। নীলা রাণী তার অপেক্ষায় আছেন এই আত্মবিশ্বাস বুকে লালন করেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে খুঁজবেন এই প্রত্যয় বাউল আসাদুজ্জামানের।

বাউল আসাদুজ্জামান তার প্রেম কাহিনী সম্পর্কে  বলেন, বয়স যখন তার পনের বছর তখন তিনি অভাবের তাড়নায় পাঁচবিবি উপজেলার একটি হোটেলে বয় হিসেবে কাজ নেন। পাশের বাসার পশ্চিমা বংশের নীলা রাণী নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া সুন্দরী এক মেয়ে হোটেলে তার কষ্টের কাজ দেখে ব্যথিত হয়। মায়া করে নীলা তার বাবাকে ম্যানেজ করে হোটেল থেকে এনে তাকে নীলার বাড়ির রাখাল হিসেবে কাজ দেয়। এখানেই তিনি থাকা-খাওয়া করতেন। প্রায় ৪ বছর নীলাদের বাড়িতে থাকাকালে নীলা ও আসাদুজ্জামানের মাঝে তৈরি হয় হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বন্ধন।

নীলা রাণীর অফুরন্ত মায়া ও সে দেখতে অপূর্ব হওয়ায় আসাদুজ্জামান তাকে খুব ভালোবাসতেন। নীলাও রাখাল আসাদুজ্জামানকে আদর ও যত্ন করতো। দু’জনের এই গভীর প্রেম নীলার বাবা-মায়ের কাছে আড়াল থাকতো। আসাদুজ্জামান বাড়ির গরুর রাখাল তাই কেউ বুঝতো না নীলা-আসাদুজ্জামানের প্রেম।

নীলার ভালোবাসা পেয়ে মনের আনন্দে আসাদুজ্জামান আল্লাহকে স্মরণ করে নীলাদের বাড়ির একটি থাকা ঘরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো। আসাদুজ্জামানের অজান্তে একদিন নীলা তার নামাজ পড়ার দৃশ্য দেখে অবাক হয়। নীলা আগে ভাবতো আসাদুজ্জামান হিন্দু। এজন্য সে আসাদুজ্জামানকে ভালোবাসতো। কিন্তু নামাজ পড়তে দেখে বিষয়টি নীলা তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। এতে আসাদুজ্জামানকে জাতি পরিচয় গোপন রাখার অভিযোগে বাড়ি থেকে বের করে দেয় নীলার পরিবার। মনের দুঃখে নীলাদের বাড়ি থেকে বের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায় আসাদুজ্জামান। এর মধ্যে নীলার পরিবারের সদস্যরা তাদের বসত ভিটা ছেড়ে অন্যত্রে চলে গেলে নীলার ঠিকানা হারিয়ে ফেলে আসাদুজ্জামান। সে কয়েকবার নীলার ঠিকানা পেতে পাঁচবিবি উপজেলা সদরে গেলেও স্থানীয়রা নীলাদের খোঁজ দিতে পারেনি। আসাদুজ্জামান পরবর্তীতে অন্যত্রে বিয়ে করলেও সেখানে প্রেমিকা নীলার ভালোবাসা তাকে সুখী করতে পারেনি।

নীলার প্রেমকে তিনি ভুলতে না পারায় পথের বাউল সেজে জীবনের শেষ প্রান্তেও ভালোবাসার মানুষকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নীলা আমাকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবেসেছে। সে আমাকে ভুলতে পারবে না, আমার জন্যে সে বেঁচে আছে। তবুও নীলার সঙ্গে আমার এ জীবনে দেখা না হলেও পর জনমে দেখা হবে। আমি আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে সেই প্রার্থনাই করছি।’

Post A Comment: