নাটোরের উত্তরা গণভবনের গাছ কাটার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এদিকে বিভাগীয় আদেশে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান এবং এসও কামরুজ্জামানকে বদলী করা হয়েছে। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।
 

নাটোরের উত্তরা গণভবনের গাছ কাটার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।  এদিকে বিভাগীয় আদেশে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান এবং এসও কামরুজ্জামানকে বদলী করা হয়েছে। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।


এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ডঃ চিত্রলেখা নাজনীন।

প্রতিবেদনে থেকে জানানো হয়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান, গণ ভবনের কেয়ার টেকার আব্দুস সবুর, ঠিকাদার সোহেল ফয়সালকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও গণপূর্তর উপ-বিভাগী প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম, গণপূর্তর এসও কামরুজ্জামান এবং তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে মোট এক হাজার ৯২সেফটি গাছ কাটা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গণবভন সুষ্ঠ ভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য ৭ দফা সুপারিশ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।


জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, গণ ভবনের মতো জায়গার গাছ কাটতে সহযোগিতা করার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ,তাকে এবং এসও কামরুজ্জামানকে অন্যত্র বদলি করেছে গণপূর্ত বিভাগ রাজশাহী ডিভিশনাল অফিস। তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অভিযুক্তর বিষয়ে মশিউর রহমান আকন্দ বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে তিনি কিভাবে অভিযুক্ত হলেন, বিষয়টি বুঝতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, নাটোরের উত্তরা গণভবনের ভিতরে সম্প্রতি ঝড়ে ভেঙে পড়া এবং মরে যাওয়া দুটি আম, একটি মেহগনিসহ কিছু গাছের ডালপালার কাটার টেন্ডারের নামে লাখ লাখ টাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী তাজা গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া যায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। আর এই গাছ কাটার কাজে সহযোগিতা করেছেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা, গণভবনের তত্ত্বাবধায়ক, বন বিভাগ সহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারা। এদিকে গণভবনের নিরাপত্তায় থাকা সিসি টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাজা গাছ কেটে নেওয়ার দৃশ্য। মাত্র ১৮ হাজার ৪’শত টাকার টেন্ডারের বিপরীতে কয়েক লাখ টাকার প্রায় ১৫ টি তাজা গাছ কেটেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

Post A Comment: