বিদেশি দম্পতি দত্তক নেয়া অন্তত ১১ হাজার শিশুকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে অথবা নগদ টাকায় কেনা হয়েছে বলে ডাচ সাংবাদিকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডস এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা সরকার এ তথ্য স্বীকার করেছে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজিতা সেনারত্নে ডাচ ডকুমেন্টারি সিরিজ জেমব্লাতে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন৷ এই পর্বটি প্রচার হয়েছে গত ২০ সেপ্টেম্বর৷ সেনারত্নে জানিয়েছেন, দেশটির সরকার এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং স্বজনদের মিলন ঘটাতে একটি ডিএনএ ডাটাবেজ তৈরির কথাও ভাবছে৷
 

বিদেশি দম্পতি দত্তক নেয়া অন্তত ১১ হাজার শিশুকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে অথবা নগদ টাকায় কেনা হয়েছে বলে ডাচ সাংবাদিকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডস এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা সরকার এ তথ্য স্বীকার করেছে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজিতা সেনারত্নে ডাচ ডকুমেন্টারি সিরিজ জেমব্লাতে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন৷ এই পর্বটি প্রচার হয়েছে গত ২০ সেপ্টেম্বর৷ সেনারত্নে জানিয়েছেন, দেশটির সরকার এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং স্বজনদের মিলন ঘটাতে একটি ডিএনএ ডাটাবেজ তৈরির কথাও ভাবছে৷


‘এই ঘটনায় পরিবারগুলোর মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে৷ সরকার এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে’, ডাচ দৈনিক আলগেমিন ডাগব্লাডকে জানিয়েছেন সেনারত্নে৷

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলেছে, জেমব্লায় প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা আশির দশকে এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল যে, তথাকথিত ‘শিশু খামারে’ ইচ্ছেকৃতভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে নারীদের গর্ভধারণ করানো হতো৷ এমনকি বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে শিশুদের চুরিও করা হতো৷


একজন মা জেমব্লাকে বলেছেন, জন্মের সময়ই শিশুটি মারা গেছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু তার এক আত্মীয় কিছুক্ষণ পর এক ডাক্তারকে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেন৷

অপরাধী চক্র মায়ের অভিনয় করার জন্য কিছু নারীকে ভাড়া করতো৷ ফলে বিদেশ থেকে আসা দম্পতিরা মনে করতেন, সত্যিকার মায়ের কাছ থেকেই শিশু দত্তক নিচ্ছেন তারা৷ এসব বিদেশি দম্পতিদের বেশিরভাগই নেদারল্যান্ডস থেকে আসা। তবে যুক্তরাজ্য, সুইডেন এমনকি জার্মানির অনেকেই শ্রীলঙ্কা থেকে শিশু দত্তক নিয়েছেন৷ এমন কিছু ভুয়া মা জানিয়েছেন, তাদের এই কাজের জন্য হাসপাতালের কর্মচারীরা টাকা দিতেন৷

জেমব্লার দাবি, শ্রীলঙ্কা থেকে শিশু দত্তক নেয়ার সময় যে অর্থ লেনদেন হতো তারও ভুয়া হিসাব দেয়া হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে৷

আশির দশকে এমন অপরাধ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে৷ অবশেষে ১৯৮৭ সালে এমন এক কারাগারের মতো পরিবেশে স্থাপিত ‘শিশু খামারে' পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয় ২২ জন নারী ও ২০ শিশু৷ এরপরই ভাটা পড়ে শিশু পাচার ব্যবসায়৷

নিরাপত্তা ও বিচার বিষয়ক ডাচ মন্ত্রী ক্লাস ডিকহফ জানিয়েছেন, ডিএনএ ডাটাবেজ এবং সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের সাথে কথা বলবেন তিনি৷

ডিকহফ আরও জানান, এই মুহূর্তে কীভাবে দত্তক নেয়ার কাজ তদারকি হতো, কার কী ভূমিকা ছিল, এবং কোন সংস্থা ও ব্যক্তি এর দায়িত্বে ছিল, এ সবের তদন্ত চলছে৷

Post A Comment: