শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইলেও যন্ত্রী (বাদ্যযন্ত্রের শিল্পী) কপালে এবার চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ডিজিটাল যন্ত্রের থাবায় কাজ না থাকায় তারা দুর্গোৎসবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। সনাতনী যন্ত্রের শিল্পীরা দুর্গোৎসবে কিছুটা কর্মমূখর সময় কাটালেও বছরের বাকী সময়ে অলস দিন কাটাতে হয়। কিন্তু এবার সে আশাও গুড়েবালি। সিলেটে তিন দফায় বন্যার কারণে মহানগরী ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পূজা কমে যাওয়ায় কাজের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় মনোনিবেশ করছেন। এবারের পূজায় মজুরী কমে যাওয়ার কারণে লোকসানের আশঙ্কা গুণছেন বিভিন্ন ব্যান্ডপার্টির মালিকরা।
Durgapujaate-is-not-working-frustrated-Sylhet-singer-artists 

শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইলেও যন্ত্রী (বাদ্যযন্ত্রের শিল্পী) কপালে এবার চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ডিজিটাল যন্ত্রের থাবায় কাজ না থাকায় তারা দুর্গোৎসবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। সনাতনী যন্ত্রের শিল্পীরা দুর্গোৎসবে কিছুটা কর্মমূখর সময় কাটালেও বছরের বাকী সময়ে অলস দিন কাটাতে হয়। কিন্তু এবার সে আশাও গুড়েবালি। সিলেটে তিন দফায় বন্যার কারণে মহানগরী ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পূজা কমে যাওয়ায় কাজের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় মনোনিবেশ করছেন। এবারের পূজায় মজুরী কমে যাওয়ার কারণে লোকসানের আশঙ্কা গুণছেন বিভিন্ন ব্যান্ডপার্টির মালিকরা।


শারদীয় দুর্গাপূজাকে আকর্ষণীয় করতে বাদ্যযন্ত্রের বিকল্প নেই। পূজার প্রায় পুরোটা জুড়ে রয়েছে যন্ত্রী অনবদ্য ভূমিকা। প্রতি বছরের মতো এবছরও পূজাকে আকর্ষণীয় করতে যন্ত্রীরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। অন্যান্য বছরের মতো কাজ যেমন এবার নেই তেমনি নেই ন্যায্য পারিশ্রমিকও। ব্যক্তিগত পূজার সংখ্যা কমে যাওয়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বিস্তারের কারণে হাতে বাজানো বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

সিলেট নগরীর কাস্টঘরের নিমাই ব্যান্ডপার্টির স্বত্তাধিকারী বেলাল আহমদের সাথে রোববার সন্ধ্যায় তার দোকানে কথা হয়। এ সময় দেখা যায় তিনি শেষ বারের মতো বাদ্যযন্ত্র মেরামত করে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবছর বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের চাহিদা নেই। প্রতি বছর ৭/৮টি পূজামণ্ডপে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর কাজ পেলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ৩টি মণ্ডপের কাজ পেয়েছি। এগুলোর রেটও কম। অন্যান্য বছর একটি মণ্ডপ থেকে পাঁচ দিনে ১৫/২০ হাজার টাকা পাওয়া যেত। এবছর যে তিনটি পেয়েছি প্রতিটির পারিশ্রমিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে জয় সাইড ড্রাম, জয়কাটি, কাঠির ঢোল নিয়ে গেলেই ১৫/২০ হাজার টাকা মেলে। আর পূজায় পাঁচ দিনে এই যন্ত্রগুলোর পাশাপাশি পিতলের বাঁশি, কাঁঠের বাঁশিও নিতে হয়। পাঁচজন মানুষের মজুরী বাবদ এই টাকা চলে যাবে। ব্যাক্তিগত পূজার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের চাহিদা কমে গেছে।

নগরীর কাস্টঘরের ভাই ভাই সংঘ ব্যান্ডপার্টির পরিচালক নির্মল কর বলেন, এবছর বিয়ের অনুষ্ঠান কম। তাই সারা বছরে পূজার সময় রোজগারের আশায় থাকি। কিন্তু তাতেও আয় নেই। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। আমার প্রতিষ্ঠানে এখন আর কোনো স্থায়ী যন্ত্রী নেই। কাজ না থাকলে যন্ত্রী রেখে লাভ নেই। তিনটি মণ্ডপের বাদ্যযন্ত্র বাজানোর কাজ পেয়েছি। খণ্ডকালীন যন্ত্রী দিয়ে কাজ চালাবো।

নগরীর বারুতখানার বলাকা ব্যান্ডপার্টির স্বত্তাধিকারী মো. বলাই মিয়া বলেন, ইলেকট্রিক বাদ্যযন্ত্রের কারণে হাতে বাজানো বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের চাহিদা কমে গেছে। সিলেটে ব্যান্ড শিল্পীর সংখ্যা ৭৫০ জন। কাজ না থাকায় অনেকে এই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। শ্রমিকের চেয়ে মালিক পক্ষ বেশি ক্ষতির সম্মুখীন।

জালালিয়া ব্যান্ড পার্টির স্বত্তাধিকারী ও সিলেট সমবায় ব্যান্ডপার্টি সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বলেন, শ্রমিকের মজুরী বেড়ে যাওয়াই লোকসানের অন্যতমও কারণ। আমাদের এটি মৌসুমী ব্যবসা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ের সময় ও পূজার সময় ব্যবসা বেশি হয়। কিন্তু এবছর কমে গেছে। যে কয়েকটি পাওয়া গিয়েছে তাতেও লোকসানের আশঙ্কা বেশি। পাঁচদিনের একটি প্রোগ্রামে শ্রমিকের মজুরী দিয়ে মালিক পক্ষের তেমন আর থাকেনা। অথচ মালিক পক্ষ সারা বছর দোকান ভাড়া, বাদ্যযন্ত্র মেরামত বাবদ অনেক টাকা খরচ করে।

সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, সিলেট নগরীতে ব্যক্তিগত পূজা মণ্ডপ মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু ৩ দফা বন্যায় উপজেলা পর্যায়ে পূজা মণ্ডপ কমে যাওয়ায় যন্ত্রীদের চাহিদা এবার কম। তিনি বলেন, সনাতন পদ্ধতির যন্ত্রীদের চাহিদা এখনো আছে। তবে সিলেটের মানুষ বন্যা দুর্যোগে অভাবে থাকার কারণে এবার যন্ত্রীরা কাজ কম পাচ্ছেন।

Post A Comment: