আইনি জটিলতায় আটকে গেল কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার বিচার। গত বছরের ২৮ আগস্ট টেইলার্স কর্মী ওবায়দুলের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় রিশা।
Trial-of-Rishta-murder-case-stuck-in-legal-court 

আইনি জটিলতায় আটকে গেল কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার বিচার। গত বছরের ২৮ আগস্ট টেইলার্স কর্মী ওবায়দুলের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় রিশা।


মামলাটিতে ২৫ জন সাক্ষীর মধ্য ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ হলেই রায় ঘোষণা করতেন আদালত। কিন্তু মামলাটিতে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের চারজন সাক্ষী রয়েছে যারা আইনত শিশু। এ জন্য আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী।

সম্প্রতি আসামিপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি ঢাকার শিশু আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। কিন্তু রিশা হত্যা মামলা হলেও শিশু আদালতে ১০ বছরের বেশি সাজা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এখন এ আইনটি পরিবর্তন করতে হলে সরকারি প্রজ্ঞাপন লাগবে। তা না হলে বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। আদালত সংশ্লষ্টিরা মনে করেন আইন প্রণেতারা আইনটি প্রণয়নের সময় যথেষ্ট অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। কারণ আসামি সাবালক তাই এ্টি দায়রা আদালতে বিচারযোগ্য হওয়ার কথা।

এদিকে শিশু আদালতের বিচারিক ক্ষমতা কমানো ঠিক হয়নি বল মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মেদ  বলেন, ‘মামলাটি বদলির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এখন এ আদালতে মামলাটি আর বিচার করতে পারবেন না।’

এ ধরনের একটি হত্যা মামলায় শিশু আদালতের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে হাইকোর্ট একটি রিট পিটিশন পেন্ডিং আছে। দুই মামলার ধরণ যেহুতু এক তাই বতর্মান পরিস্থিতিতে রিশা হত্যা মামলার বিচার করার এখতিয়ার শিশু আদালতের নেই।

গত বছরের ২৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজে রক্তাক্ত অবস্থায় রিশাকে পাওয়া যায়। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিশার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দিনই রিশার মা তানিয়া রাজধানীর রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় এবং দণ্ডবিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করেন। রিশা নিহত হওয়ার পর হত্যার অভিযোগে ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।

ঘটনার পর থেকে ওবায়দুল পলাতক ছিলেন। তাকে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডেমরা থানার সোনারগাঁও থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ওবায়দুলের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড চলাকালীন চতুর্থ দিন ৫ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রেমের প্রস্তাবে রিশা রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করে বলে ওবায়দুল স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেন।

এরপর মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুল হককে একমাত্র আসামি করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক আলী হোসেন। অভিযোগপত্রে ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয়।

নিহত রিশা রাজধানীর বংশাল থানাধীন সিদ্দিকবাজার এলাকার রমজান হোসেনের মেয়ে। অন্যদিকে ওবায়দুল দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লিকা শপিংমলের বৈশাখী টেইলার্সের কর্মচারী ছিলেন।

Post A Comment: