কষ্টের সংসারেও কিছু সঞ্চয় ছিল ৬৯ বছর বয়সী আছিয়ার। অভাবের তাড়নায় এই বয়সেও বাজারে সবজি বিক্রি করে অল্প অল্প করে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা তিনি প্রথমে কাপড়ে এবং পড়ে পলিথিনে মুড়িয়ে রেখেছিলেন এক পোটলায়। সর্বনাশা বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তার সেই পোটলা। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেল তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ভরসা। এখন আবার নিঃস্ব আছিয়ার সামনে কেবলই ঘুটঘুটে অন্ধকার।
 

কষ্টের সংসারেও কিছু সঞ্চয় ছিল ৬৯ বছর বয়সী আছিয়ার। অভাবের তাড়নায় এই বয়সেও বাজারে সবজি বিক্রি করে অল্প অল্প করে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা তিনি প্রথমে কাপড়ে এবং পড়ে পলিথিনে মুড়িয়ে রেখেছিলেন এক পোটলায়। সর্বনাশা বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তার সেই পোটলা। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেল তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ভরসা। এখন আবার নিঃস্ব আছিয়ার সামনে কেবলই ঘুটঘুটে অন্ধকার।


হঠাৎ আসা বন্যার পানি দেখে পরিমরি করে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে গিয়েছিলেন দিনাজপুর শহরের পশ্চিম উপকন্ঠ বালুয়াডাঙ্গা নতুন পাড়ায় বৃদ্ধা আছিয়া। পানি নেমে যাওয়ার পর শনিবার বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু আর খুঁজে পাননি সাধের সেই পোটলা।

ঘরের আনাচে কানাচে খুঁজে পোটলাটি খুঁজে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আছিয়া। জানান, টাকার পোটলাটি তিনি রেখেছিলেন ঘরের কোনে চৌকির নিচে এক পাতিলে।

‘আমার কি হইবো বাবা, আমি ক্যামনে ব্যবসা করুম, কি খামু! সব নিয়া গেলো কালনাগিনী বানে ভাসাইয়া’- আছিয়ার বিলাপে চোখে পানি চলে আসে অন্যদের। কিন্তু এই বন্যা সবাইকেই বলতে গেলে নিঃস্ব করে দিয়েছে। ফলে তার পাশে দাঁড়াবে-এমন লোক খুঁজে পাওয়া ভার।

স্বামী পরিত্যক্তা আছিয়া দুই মেয়ের জননী। বিয়ে হয়ে গেছে দুই জনেরই। এখন এক মেয়ে আর তার দুই সন্তানকে নিয়েই থাকেন তিনি।

দিনাজপুরে বন্যায় বানভাসী প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে। এখনও ৫০ হাজার মানুষ তিনশ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাদের এখন বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। প্রকোপ আকার ধারণ করেছে, পেটের পীড়াসহ নানা রোগ-বালাই।

শনিবার দুপুরে বিরল উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের রাজারামপুরে গিয়ে বন্যার্ত মানুষের আহাজারি দেখা যায়। মালঝার গ্রামের প্রায় ৭০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা ধলিবালা রায় জানান, বন্যার এক সপ্তাহে সরকারি এক ছটাক সাহায্যও পাননি তিনি।

এই বৃদ্ধের এখন কোনো আয় নেই। ঘরে কোনো খাবারও নেই। ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী ত্রাণ কেন্দ্রের সামনে অনুনয়-বিনয় করেন একটা রিলিফের স্লিপের জন্য। বলেন, ‘বাবা সকাল থাকি না খাইয়া আছ বাহে, মোর এ্যাহনা ইলিপের বেবস্থা করি দ্যাননা ক্যাঁনে।’

পানি সরে গেলেও বসতবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় অনেকেই বাঁশের মাচা পেতে পরিবার পরিজন নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছে। এদের অধিকাংশই রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। কোন ভালো গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড় করালেই ত্রাণের আশায় ছুটে যাচ্ছে গাড়ির কাছে।

Post A Comment: