নারায়ণগঞ্জে শিবিরের নেতা পুলিশের এক এসআই ও তার দুই শিশু সন্তানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে স্ট্যাটাস দিয়েছে। এতে লেখা হয়েছে “তোমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে কারণ তুমি সরকার” “আমার সন্তান যেনো মরে পথে ঘাটে কারণ আমি জনগণ”। স্ট্যাটাসের সাথে যে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা যায় আজাদ তার দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসে আছে। এই স্ট্যাটাসটি এখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।
Shibir-leader-status-on-Facebook-with-pictures-of-SI-and-his-child

    নারায়ণগঞ্জে শিবিরের নেতা পুলিশের এক এসআই ও তার দুই শিশু সন্তানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে স্ট্যাটাস দিয়েছে। এতে লেখা হয়েছে “তোমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে কারণ তুমি সরকার” “আমার সন্তান যেনো মরে পথে ঘাটে কারণ আমি জনগণ”। স্ট্যাটাসের সাথে যে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা যায় আজাদ তার দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসে আছে। এই স্ট্যাটাসটি এখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।


 

সোনারগাঁয়ে জামায়াতের ৪৩ নেতাকর্মী আটকের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ওই এসআই আজাদ। আব্দুল মমিন নামে ফেসবুক আইডি থেকে ছবিসহ স্ট্যাটাসটি দেয়া হয়েছে। আব্দুল মমিন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্র শিবিরে প্রভাবশালী নেতা। তার এ স্ট্যাটাসটি অনেকেই শেয়ার করে নানা কমেন্ট করেছে। কমেন্টে অনেকে লিখেছেন আটকের সময় ৪৩ নেতাকর্মীর ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।

তবে এসআই আজাদ লাঠি চার্জের কথা অস্বীকার করে জানান, আটকের সময় হলুদ গেঞ্জি পরে আমি একটি বাজারে ছিলাম। ওই সময় খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে খালি হাতে যাই। আমি কাউকে কোন লাঠিচার্জ বা মারধর করিনি।

আটক ৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে। আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া ঘুরে দেখা যায়, আদালতপাড়ায় নিরাপত্তার কোন বালাই নেই। যত্রতত্র গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল ও চা-পানের দোকান। এ আদালতপাড়ার চার পাশে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জজ কোর্টের দক্ষিণে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়, জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়, পূর্ব দিকে গণপূর্ত বিভাগ, জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজ, উত্তর দিকে রয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়। এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের দুইটি গেইটে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকলেও নেই কোন তৎপরতা। যার ফলে প্রায়ই আসামি পলায়ন ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।

এব্যাপারে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সোহেল আলম জানান, আদালতপাড়ার চার পাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। রিমান্ড শুনানির জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবার হোটেল বলতে জেলা জজ কোর্টের স্টাফরা একটি খাবার হোটেল বসিয়েছে। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্টাফরা একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে কে বা কারা চা পানের দোকান দিয়েছে তা আমার জানা নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানগুলো উচ্ছেদের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জামায়াত ও শিবিরের একটি দল বনভোজনের নামে সোনারগাঁও যাদঘুরের ১নং গেটের বিপরিতে ‘সোনারগাঁও মিনি চাইনিজ’ নামের ওই রেস্টুরেন্টটি ভাড়া করে। ২৯ জুলাই শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পুলিশের একটি টিম ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তারা বনভোজনের কথা জানায়। তখন পুলিশের সন্দেহ হলে রেস্টুরেন্ট ঘেরাও করার চেষ্টা করলে তাদের উপর চেয়ার ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ধাওয়া করে ৪৩ জনকে আটক করে।

সোনারগাঁ থানার ওসি খোরশেদ আলম জানান, আটক ৪৩ সদস্যের কাছ থেকে লিফলেট, ব্যানার ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে পুলিশের উপর হামলা করে জামায়াত শিবিরের লোকজন। পুলিশও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Post A Comment: