উম্মে আয়েশা আশা এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়েছেন। আশা নীলফামারী শহরের শাহিপাড়া মহল্লার গুলজার হোসেন এবং মহসেনা বেগমের তৃতীয় সন্তান।

    উম্মে আয়েশা আশা এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়েছেন। আশা নীলফামারী শহরের শাহিপাড়া মহল্লার গুলজার হোসেন এবং মহসেনা বেগমের তৃতীয় সন্তান।


নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী হিসেবে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

আশা নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ, জেএসসিতে একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ পাঁচ অর্জন করে। এ ছাড়া প্রাথমিক এবং অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারে আশারা চার বোন। একমাত্র উপার্জনকারী বাবা গুলজার বই বাইন্ডিং ও সিল বানিয়ে সংসারের পাশাপাশি চারজনের পড়াশোনার খরচ বহন করছেন।

শহরের শিল্পকলা একামেডি চত্বরে ছোট একটি ঘরে উপার্জনের একমাত্র পথে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সময় দেন গুলজার।

বড় বোন গুলনাহার আক্তার স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। মেঝ বোন রিমা আক্তার স্নাতক চতুর্থ বর্ষে এবং ছোট বোন মিফতাহুল জান্নাত অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে।

খরচের বোঝা চালানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে বাবা গুলজার হোসেন  বলেন, ‘শত কষ্টের মাঝেও মেয়েদের পড়াশোনায় কখনো বাধা দেইনি। ধার করে হলেও তাদের খরচ চালিয়ে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েগুলো আমার মেধাবী, সম্পদ। গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ পেলেও অর্থাভাবে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে তাকে পড়াতে পারব না।’

আশার ফল অর্জনকে গোবরে পদ্মফুল মন্তব্য করে উন্নয়নমুখী সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আহসান রহিম মঞ্জিল বলেন, ‘ছেলে মেয়েদের পেছনে বিত্তশালীরা কতই না খরচ করছেন, তার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের মেধাবীদের অর্থ না থাকলেও মেধা আটকে থাকেনি। বরং বিকশিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো তাকে হিসাবে রাখিনি ওই পরিবারের এমন মেধাবী রয়েছে।’ মেয়েটিকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আহসান রহিম।

Post A Comment: