চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদারদের মধ্যে পশুর ট্রাক নিয়ে টানাটানি হওয়ার আশঙ্কা করছে পুলিশ ও ইজারাদাররা।
In-Chittagong-the-lease-of-animals-is-likely-to-be-dragged-by-animals 

চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদারদের মধ্যে পশুর ট্রাক নিয়ে টানাটানি হওয়ার আশঙ্কা করছে পুলিশ ও ইজারাদাররা।


নগরীর সিটি গেট এলাকায় বিভিন্ন হাটের ইজারাদাররা গরুভর্তি ট্রাক নিয়ে টানাটানি করতে পারে এমন আশঙ্কায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপির সদরদপ্তরে পশু ব্যবসায়ী ও হাটইজারাদারদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পশু ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের ইচ্ছামত যে কোনো বাজারে পশু নিয়ে যেতে পারবে। এতে কেউ বাধা দিতে পারবে না। বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইকবাল বাহার বলেন, নির্ধারিত জায়গার বাইরে কোনো হাট ইজারাদারই পশু রাখতে পারবেন না। কোন হাটের সীমানা কতটুকু তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

ঈদ জামাতের নিরাপত্তা, কোরবানির পশুর নিরাপত্তা ও ঈদ পরবর্তী চামড়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নগরীতে স্বাভাবিক পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়ন থাকবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার দুটি স্থায়ী পশুর বাজারের পাশাপাশি ছয়টি অস্থায়ী বাজারের অনুমোদন দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এরমধ্যে স্থায়ী সাগরিকা গরু বাজার এবং বিবিরহাট পশু বাজারের ইজারাদার হচ্ছে একই গ্রুপ।

অন্যদিকে, অস্থায়ী ছয়টি পশুর বাজার ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে। অস্থায়ী বাজারগুলো বসবে ১০ দিনের জন্য।

মঙ্গলবার পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী বাজারের ইজারাদাররা পশুর ট্রাক অবাধে যাতায়াত করার নিশ্চয়তা দাবি করেন।

তারা বলেন, চট্টগ্রামের বাজারে পশু আসে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে। শহরের প্রবেশ পথে মহাসড়কের সিটি গেটে স্থায়ী বাজারের ইজারাদাররা লোকজন বসিয়ে রাখে। পশুভর্তি ট্রাক আসার সময় সেগুলোকে জোর করে পার্শ্ববর্তী সাগরিকা বাজারে নিয়ে যায়।

অস্থায়ী পশু বাজার কর্ণফুলী গরু বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ সোলাইমান  বলেন, ‘সাগরিকা বাজার ও বিবিরহাটের ইজারাদাররা সিটি গেট থেকে গরুর ট্রাক জোরপূর্বক তাদের বাজারে নিয়ে আসে।’

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বিষয়টি পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। এবার পশুভর্তি ট্রাক নিয়ে টানাটানি না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ চাইলে এসব প্রতিহত হবে।’

অস্থায়ী বাজারের ইজারাদারদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থায়ী বাজারের ইজারাদাররা।

বিবিরহাট গরু বাজারের ইজারাদার জামসেদ আলী  বলেন, স্থায়ী বাজারের জন্য পশুর অভাব হয় না। সাগরিকা বাজার ও বিবিরহাটের নাম প্রসিদ্ধ। নগরীর বেশির ভাগ মানুষ এখানেই পশু কিনতে আসেন, ব্যপারীরাও সেটা জানে। তারা এখানেই গরু আনতে স্বস্তি বোধ করে।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চট্টগ্রাম সফরের সময় সাগরিকা গরু বাজারের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। কারণ জহুর আহমদ স্টেডিয়ামের কাছাকাছি এই বাজারটির সামনের রাস্তা দিয়ে খেলোয়াড়রা আসা-যাওয়া করবেন। তাই ১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ওই রাস্তায় কোনো ধরনের পশু না রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সিএমপি

Post A Comment: