সিডর তান্ডবে বিধ্বস্ত সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আজও মেরামত না করায় নয় গ্রামের তিন হাজার কৃষক পরিবারে এখনও দুর্ভোগ কাটেনি। যা এখন দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। আন্ধারমানিক নদীর উত্তাল তান্ডবে সিডরের সময় প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়। যার আড়াই কিলোমিটার সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।
সিডরে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ ১০ বছরেও নির্মিত হয়নি

    সিডর তান্ডবে বিধ্বস্ত সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আজও মেরামত না করায় নয় গ্রামের তিন হাজার কৃষক পরিবারে এখনও দুর্ভোগ কাটেনি। যা এখন দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। আন্ধারমানিক নদীর উত্তাল তান্ডবে সিডরের সময় প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়। যার আড়াই কিলোমিটার সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।




পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর, কমরপুর, সুধীরপুর, পুরান মহিপুরসহ পাঁচ গ্রামের মানুষ পড়েন চরম দুর্ভোগে। একইদশা উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের। প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সিডরের পর থেকে বিধ্বস্ত রয়েছে। বেড়িবাঁধের অধিকাংশ স্থান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে চারিপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নয়াকাটা, মুন্সীপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামের মানুষ চরম বিপাকে রয়েছেন। প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারেও হানা দেয় লোনা পানি। বাড়িঘরসহ চলাচলের রাস্তাঘাট সব ডুবে যায়। আমন ফসল ফলাতে পারেন না এসব কৃষক।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই বেড়িবাঁধ। বাঁধটি বিধ্বস্ত হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে। ষাটোর্ধ আবুল হাশেম জানান, বাধঁ বিধ্বস্ত হয়ে তাঁর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি অন্যের বাড়ির সামনে ঝুপড়ি ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। নিজামপুর গ্রামের বিবি করিমন জানান, জোয়ারের সময় পানিতে সব ডুবে যায়। রান্না করতে পারেন না। অনেকদিন উপোস করতে হয়েছে। রাত কাটে বিনিদ্র। নিজামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া জানায়, একটু বড় যারা তারা স্কুলে আসছে অনেক কষ্ট করে। কিন্তু ছোটরা স্কুলে আসতেই পারেনা। সামনে সমাপনী পরীক্ষা। প্রতিদিন স্কুলে ভিজে আসা যাওয়া করতে হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ভিতরের রাস্তাঘাট সব নষ্ট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় মসজিদে নামাজ পর্যন্ত পড়তে পারেন না মুসুল্লীরা। মানুষ মারা গেলে ভাটায় পানি শুকিয়ে যাওয়া ছাড়া দাফন হয়না। পেশা হারিয়ে বহুজনে এলাকা ছেড়ে ঢাকাসহ অন্যত্র চলে গেছেন। এলাকার বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী মনিরুল ইসলাম জানান, জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে বিকল্প রিং বেড়িবাঁধ র্নিমাণ করা হলেও ইতোমধ্যে সেটিও ভেঙে গেছে। তিনি আরো বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস থাকলেও তার কোন বাস্তব প্রতিফলন নেই।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, জরুরি ভিত্তিতে ইতোপূর্বে কয়েকবার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ওখানে দরকার এখন স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। প্রকল্প প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

Post A Comment: