শুরু ইন্টারনেট ব্যবসা দিয়ে। সেই সুবাদে বিভিন্ন পর্নসাইটে বিচরণ করতেন ফুয়াদ বিন সুলতান। মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ছিল তার নেশা। এক পর্যায়ে সেটাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন এই যুবক। শুরু করেন পর্ন ব্যবসা।
Fouad-wanted-to-spread-Bangla-porn-across-the-country

    শুরু ইন্টারনেট ব্যবসা দিয়ে। সেই সুবাদে বিভিন্ন পর্নসাইটে বিচরণ করতেন ফুয়াদ বিন সুলতান। মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ছিল তার নেশা। এক পর্যায়ে সেটাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন এই যুবক। শুরু করেন পর্ন ব্যবসা।


ওয়েবসাইটে আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ও তরুণীদের মোবাইল নাম্বার ছড়িয়ে দিয়ে নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ করে বিভিন্নজনকে আকৃষ্ট করতেন ফুয়াদ। এছাড়া যুবকদের কাছ থেকে গোপনে ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও কিনে নিজ সাইটে প্রকাশ করতেন তিনি।

তার আটটি ওয়েবসাইট থেকে ভিডিওগুলো বিদেশি অনেক পর্নগ্রাফি সাইটে উচ্চমূল্যে বিক্রি হতো। বিদেশে এমন লক্ষাধিক পর্নসাইট থাকলেও এসব কুকীর্তির মধ্য দিয়ে ফুয়াদই প্রথম বাংলাদেশে বাণিজ্যক পর্ন ব্যবসা শুরু করেন।

কে এই ফুয়াদ?

শুধু পর্নগ্রাফি নয়, অবাধে দেহ ও মাদকের ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন নিজেকে পর্ন জগতের শিল্পী দাবি করা ফুয়াদ বিন সুলতান। ইংরেজিতে অনার্স শেষ করে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর ফুয়াদ ২০১১ সাল থেকে গুলশান ও উত্তরা এলাকায় বাসা ভাড়া করে দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেন।

পরে ২০১৪ সাল থেকে ইন্টারনেটের ব্যবসা শুরু করেন ফুয়াদ। তখন থেকেই পর্নসাইটের ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার চিন্তা করেন। সেই চিন্তা থেকে ২০১৫-১৬ সালে দুটি ওয়েবসাইট চালু করে পর্নগ্রাফির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

তবে ফুয়াদের ওয়েবসাইটগুলোর পর্নগ্রাফির ধরণটা ছিল অন্য ওয়েবসাইটগুলো থেকে ভিন্ন। বিভিন্নভাবে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি ও ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতেন ফুয়াদ। তবে সেসব সাইটে সকলের প্রবেশের অনুমতি ছিল না। টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের সাইটে লগইনের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড সরবরাহ করা হতো।

উত্তরায় নিজ ফ্ল্যাটে অবাধে দেহ ব্যবসা চালাতেন ফুয়াদ

ওয়েবসাইটে গ্রাহকরা কাউকে পছন্দ করলে, নির্ধারিত মূল্যে তাকে উত্তরায় নিজের দুইটি ফ্ল্যাটে শারীরিক সম্পর্কের ব্যবস্থা করে দিতেন ফুয়াদ। ফ্ল্যাটে আসা তরুণ-তরুণীদের ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকও সরবরাহ করতেন তিনি।

গ্রাহকরা যখন ওই ফ্ল্যাটে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন, তখন সেসব দৃশ্য গোপনে ভিডিও করতেন ফুয়াদ। এরপর সেসব ভিডিও দেখিয়ে তরুণীদের ব্ল্যাকমেইল করে ফের শারীরিক সম্পর্কের জন্য বাধ্য করতেন তিনি। মুখোশ পরে মেয়েদেরকে অশালীন অবস্থায় পাশে বসিয়ে ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিংও করতেন এই ফুয়াদ।

অনুসন্ধানে জানতে পারে, ফুয়াদের উত্তরার ওই দুই ফ্ল্যাটে যারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন তাদের কাছ থেকে ঘন্টায় ২০ হাজার, দুই ঘণ্টায় ২৫ হাজার, চার ঘন্টা বা সারা রাতে ৩৫ হাজার টাকা চার্জ আদায় করা হতো। অনেক হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি ছিল ফুয়াদের দৈনিক গ্রাহক।

আটটি সাইট দিয়ে পর্ন ও দেহ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন ফুয়াদ

আটটি পর্নসাইটের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে পর্নগ্রাফি ও দেহ ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিকৃত মানসিকতার ফুয়াদ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উত্তরা মডেল টাউনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হলেও তার ওয়েবসাইটগুলো এখনো বন্ধ করতে পারেনি র‍্যাব।

র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক সারোয়ার বিন কাশেম  বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি আটটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের পর্ন ব্যবসা দেশের মধ্যে একমাত্র ফুয়াদই করতেন। ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করা এবং ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কী ছিল ফুয়াদের ওয়েবসাইটে?

বিকৃত মানসিকতার ফুয়াদের তৈরি সাইটগুলো গ্রাহকদের শুধু পর্ন ভিডিওই সরবরাহ করতেন না, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দিতেন। এমনকি ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় ট্রিপের ব্যবস্থাও করা হতো ওই ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে।

অনুসন্ধান করতে গিয়ে ফুয়াদে আটটি পর্নসাইটের মধ্যে একটির ঠিকানা  হাতে আসে। রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্তও ওয়েবসাইটটি চালু ছিল। চালু ছিল ওয়েবসাইটটির ফেসবুক পেজও, যার সদস্য সংখ্যা ১৪ হাজার।

ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বেশকিছু নিয়মাবলী। এতে লেখা- ১৮ এর অধিক যাদের বয়স তাদের জন্য। সদস্য হতে চাইলে প্রত্যেকটা ওয়েবসাইটের পেজ ভালোভাবে দেখে পড়ে নিবেন। তারপর সিরিয়াসলি মেম্বার হতে চাইলে ফোন দিবেন।

সেখানে গ্রাহকদের জন্য উল্লেখ করা আছে যে, এই ওয়েবসাইটের সুবিধা হলো কোনো মিডলম্যান বা কোনো মাধ্যম নাই। আপনি সরাসরি আপনার পার্টনারকে কল করবেন, কোনো এডভান্স সিস্টেম বা বিকাশ সিস্টেম নাই।

সাইটে মেম্বারশিপ নেওয়ার দুই ধরনের নিয়মও উল্লেখ করা হয়েছে ওই নিয়মাবলীতে। প্রথমটি হলো কাপল মেম্বারশিপ। এই পদ্ধতিতে কাপলরা চাইলে রুম ভাড়া নিতে পারবেন। ৬০০০ টাকায় দুইজন সদস্যপদ পাবেন, যার মেয়াদ থাকবে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এছাড়া সদস্যপদ নেয়ার আরেকটি ধরন হলো পুরুষ ও মহিলারা আলাদাভাবে সদস্য হতে পারবেন। সেক্ষেত্রেও ৬০০০ টাকাই দিতে হবে। মেম্বার হওয়ার পর তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। ওই পাসওয়ার্ড দিয়ে পুরুষ ব্যবহারকারীরা সাইটে প্রবেশ করে নারী সদস্যদের ছবিসহ নাম ও ফোন নম্বর পাবেন। সেখান থেকে যে কাউকে বেছে নেওয়ার পর তার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে মহিলাদের সদস্যপদের জন্যও ৬০০০ টাকা দিতে হবে। তবে প্রথম ১০০ জনকে ফ্রি মেম্বারশিপ দেওয়া হবে। মেম্বারশিপ নেওয়ার পর তারা পুরুষ সদস্যদের ফোন নম্বর, ছবি ও ফেক ফেসবুক একাউন্ট পাবেন। তবে সবার ক্ষেত্রে ফেক ইমেইল ও ফেসবুক ব্যবহারের অনুরোধও করা হয়েছে ওই পর্ন সাইটের সদস্যপদ নিতে।

এছাড়াও ১০০০ থেকে ১৫০০০ টাকার বিনিময়ে সদস্যরা কক্সবাজার সিলেট, সেন্ট মারটিন, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও দুবাইয়ের মতো বিভিন্ন জায়গায় ট্রিপে যেতে পারবেন বলেও জানানো হয় ওই নিয়মাবলীতে।

Post A Comment: