একাধিক মামলায় বন বিভাগের কর্মকর্তা আছেন কারাগারে। অথচ তার বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি চাঞ্চল্যকর এ খবরটি নাকি জানেই না তারা!
Forest-officials-of-the-government-service-from-the-jail 


একাধিক মামলায় বন বিভাগের কর্মকর্তা আছেন কারাগারে। অথচ তার বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি চাঞ্চল্যকর এ খবরটি নাকি জানেই না তারা!


গাজীপুর কারাগারে থাকা ফরেস্টার মো. আমিরুল হাসান নরসিংদীর পলাশ থানার টেনরাপাড়া এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সরকারি বনভূমি দখল অভিযোগে একাধিক বন মামলা রয়েছে।

গাজীপুর কারাগারের জেলার ফোরকান ওয়াহিদ জানান, আদালতের নির্দেশে আমিরুল হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে আমিরুল হাসান গাজীপুর কারাগারে আছেন। আমিরুল হাসান সরকারি কর্মকর্তা কী না এ ব্যাপারে তিনি অবগত নন।

বন বিভাগ সূত্রে গেছে, ২০১৪ সালে আমিরুল হাসান বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ফরেস্টার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে তাকে বন বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গাজীপুর বন বিভাগের দায়েরকৃত একাধিক বন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ায়ানা থাকার পরও রহস্যজনকভাবে আমিরুল হাসানকে পুনরায় সরকারি চাকরিতে বহাল করা হয়।

এ ফরেস্টার বর্তমানে কারাগারে থাকলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আগ্রহ নেই। তবে একজন সরকারি কর্মকর্তা জেলে থেকেও কীভাবে চাকরি বাঁচিয়ে রেখেছেন, তার খুঁটির জোর-ই বা কোথায় এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। নজিরবিহীন এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবসরের যাওয়ার পরও থেমে থাকেনি বনদস্যু আমিরুল হাসানের দখল বাণিজ্য। তিনি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের দালাল হয়ে সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এ দখল বাণিজ্য চালাতেন। প্রথম দিকে এ গ্রুপটি বনের ভূমি পরিষ্কার করে গজারি সৃষ্ট কপিচ কেটে বনভূমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন করতো। পরে ছাপড়া ঘর তোলা থেকে শুরু করে সুযোগ বুঝে ভবন নির্মাণের পাঁয়তারাও করতো। এসব নির্মাণ শেষ হলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা বিক্রি করতেন আমিরুল।

আমিরুল হাসানের বিরুদ্ধে গত বছরের ডিসেম্বরে গাজীপুর বন আদালতে দুটি মামলা দায়ের করে বন কর্তৃপক্ষ। মামলা নম্বর ২৫১ ও ২৫২। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মারুফা আক্তার জানান, আমিরুল হাসানকে ২০১৪ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় বন বিভাগ। পরবর্তী সময়ে চাকরি ফিরে পেতে তিনি সরকারি বিধি মেনে আপিল করেন। তার আপিল বিবেচনা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে আমিরুল হাসান চাকরি ফিরে পান। গত জুলাই মাসে আমিরুল হাসান সামাজিক বন অঞ্চল ঢাকায় যোগদান করেন। সম্প্রতি তাকে সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লায় পোস্টিং দেয়া হয়েছে। তিনি কুমিল্লায় যোগদান করেছেন কী না এ ব্যাপারে তার জানা নেই। আমিরুল হাসান কারাগারে কী না তাও তিনি জানেন না! তবে আমিরুল হাসান যদি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে থাকেন এবং জেলে থাকেন তবে এ বিষয়টি সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় প্রধানকে জানালে সরকারি বিধি-বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

এদিকে সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত ৪-৫ দিন আগে আমিরুল হাসানের কুমিল্লায় পোস্টিং হওয়ার চিঠি তিনি পেয়েছেন। তবে আমিরুল হাসান এখনো যোগদান না করায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ নিশাদ জানান, ফরেস্টার আমিরুল হাসান কারাগারে থাকার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

একই কথা বলেছেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. সফিউল আলম চৌধুরী। তিনি  জানান, আমিরুল হাসান কারাগারে থাকার বিষয়টি তিনিও জানেন না। এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও তিনি জানান।

তবে গাজীপুর বন আদালতের বন মামলা পরিচালক আবু জাফর  জানান, ২০১৬ সালে গাজীপুর বন আদালতে দায়েরকৃত দুটি মামলায় আমিরুল হাসান একজন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। বেশ কয়েকদিন আগে নরসিংদীর পলাশ থানা পুলিশ আমিরুল হাসানকে আটক করে নরসিংদী আদালতে পাঠায়। পরবর্তী সময়ে আদালত আমিরুল হাসানকে সাময়িক জামিন দেয়। বন মামলাগুলো গাজীপুরে হওয়ায় আমিরুল হাসান গাজীপুর বন আদালতে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিদ্যমানসহ একাধিক মামলা চলমান থাকায় ফরেস্ট অ্যাক্ট ১৯২৭এর ২৬ (১ক) ধারায় অভিযোগ যা অ-জামিন যোগ্য। তাই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুর বন আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহার।

Post A Comment: