ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো জমে উঠেনি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের কোরবানির পশুর হাট। বাজারে প্রচুর পশুর সমাগম ঘটলেও হাটগুলোতে নেই ক্রেতা। তবে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা জমার আশায় বসে আছেন পাইকাররা।
 Coaline-hat-in-Sylhet-has-been-purchased


ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো জমে উঠেনি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের কোরবানির পশুর হাট। বাজারে প্রচুর পশুর সমাগম ঘটলেও হাটগুলোতে নেই ক্রেতা। তবে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা জমার আশায় বসে আছেন পাইকাররা।


নগরীর প্রধান বড় পশুর হাট কাজিরবাজর ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় বাহারি রংয়ের গরু নিয়ে বসে আছেন পাইকাররা। এছাড়া ভারত ও নেপালি গরুরও সমাগম রয়েছে বাজারে। কিন্তু ক্রেতা কম। যারা আসছেন গরু দেখে দরদাম করেই চলে যাচ্ছেন। বিক্রি নেই বললেই চলে।

 


কুষ্টিয়া থেকে কাজিরবাজারে আসা পাইকার আব্দুল খালেক  বলেন, বড় বড় গরু নিয়ে এসেছি। চার দিনে মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। দেশে বন্যার প্রভাবে মানুষ অভাবে দিন কাটাচ্ছে। তাই এর প্রভাব কোরবানির পশুর বাজারে পড়েছে।

এছাড়া ট্রাকভর্তি গরু নিয়ে আসার সময় নিরাপত্তার অভাবও রয়েছে বলে জানান খালেক।  তিনি বলেন, বাজারে আসার পথে রাস্তায় গরুর ট্রাক আটকে জোর করে ছোট ছোট বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

লালাবাজারের পশু বেপারি কাজল মিয়া  বলেন, তিন দফা বন্যা মানুষের সব কেড়ে নিয়েছে। প্রতিটি গৃহস্থ পরিবার অভাব অনটনে দিন পার করছে। তাই গরুর বাজারে ক্রেতা নেই।

কাজল বলেন, তিন দফা বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে গবাদি পশুর খাবার সংকট, রাখার জায়গার অভাবে অনেক গৃহস্থ তাদের গরু ছাগল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এছাড়াও বন্যার তোড়ে অনেক বাণিজ্যিক গরুর খামার ভেসে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে কোরবানির বাজারে।

কাজিরবাজার পশুহাটের কেয়ারটেকার ধেনু মিয়া  বলেন, গত ২২/২৩ বছর থেকে এ বাজারেই দায়িত্ব পালন করছি। তবে এবারের মতো মন্দা বাজার আর কোনো বছর দেখিনি। তবে শেষ মুহূর্তে বাজার কিছুটা জমতে পারে বলে আশাবদী ধেনু মিয়া।

সিলেট জেলায় এবার ৮৩টি কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলার কোথাও অবৈধভাবে পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না এবং রাস্তায় জোরপূর্বক গরুবাহী ট্রাক আটকানো যাবে না বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, সিলেট মহানগরী ও শহরতলীতে ১০ বৈধ পশুর হাট রয়েছে। এগুলো হলো, সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানার কাজীর বাজার পশুর হাট, বিমানবন্দর থানার লাক্কাতুরা চা বাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, দক্ষিণ সুরমা থানার লালাবাজার পশুর হাট, কামাল বাজার পশুর হাট, নাজির বাজার পশুর হাট, মোগলাবাজার থানার রেঙ্গা হাজীগঞ্জ বাজার, জালালপুর পশুর হাট, রাখালগঞ্জ বাজার পশুর হাট, শাহপরান (রহ.) থানার পীরের বাজার পশুর হাট ও খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ।

এছাড়া সিটি করপোরেশন টেন্ডারের মাধ্যমে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট, চালিবন্দর, ঝালোপাড়া ও কদমতলী এলাকায় আরও চারটি অস্থায়ী পশুরহাটের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এর বাইরেও নগরীতে অন্তত ১৫টি অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বসানো এসব অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদেও নেই তেমন তৎপরতা।
 


৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান পাপ্পুর নেতৃত্বে শাহী ঈদগাহ এলাকাবাসীর ব্যানারে বসেছে অবৈধ পশুর হাট। এছাড়াও অবৈধ পশুর হাট বসেছে লালটিলা, কয়েদীর মাঠ, আম্বরখানা (আবাসন হাউজিং), আখালিয়া, চন্ডিপুল, মাদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, দর্শন দেউড়ী, হাউজিং এস্টেট, টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ, রিকাবীবাজার, মেন্দিবাগ জালালাবাদ গ্যাস অফিসের পেছনে, কদমতলী ফল মার্কেটের সামনেও।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র অবৈধ হাট বসিয়েছেন এসব হাট উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

Post A Comment: